রক্তাক্ত নেপাল: ধর্মীয় সংঘর্ষে নিহত ৩, সেনার টহল ও একাধিক জেলায় কার্ফু

নেপালের একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা। বিগত চার দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় কার্ফু জারি করা হয়েছে এবং টহলে নামানো হয়েছে নেপাল সেনাকে।
কীভাবে সূত্রপাত এই সংঘর্ষের? ঘটনার সূচনা হয় সুনসারি জেলার দেবাঙ্গঞ্জ এলাকায়। খবর অনুযায়ী, একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা চলাকালীন লাউডস্পিকার বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। নিমেষেই তা বড় আকারের সংঘর্ষে রূপ নেয়। জনতা অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলি চালায় পুলিশ।
পরবর্তীতে এই হিংসা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মাধেশ প্রদেশের ধনুষা, সিরাহা, ইনারুয়া, জনকপুর, গোলবাজার এবং লাহানসহ বিভিন্ন এলাকায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব অঞ্চলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাজারঘাট, গণপরিবহণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আকাশপথে হেলিকপ্টারের মাধ্যমেও নজরদারি চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।
নিহতদের ‘শহিদ’ ঘোষণা ও ক্ষতিপূরণ: পুলিশের গুলিতে ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতা এবং ২২ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতার মৃত্যু হয়েছে। দেবাঙ্গঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভা তাঁদের স্থানীয়ভাবে ‘শহিদ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং নেপাল সরকারের কাছে তাঁদের সরকারি শহিদের মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ পাঠিয়েছে।
নিহতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ নেপালি টাকা এবং সংঘর্ষে গুরুতর ও আংশিক আহতদের যথাক্রমে ২ লক্ষ ও ৫০ হাজার নেপালি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
শান্তির আবেদন প্রধানমন্ত্রীর: দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার জোর আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তবে বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তুলছে, প্রশাসনের সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার গাফিলতিতেই পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।