ইথানল না মেশালে পেট্রোল হতো ১২৫ টাকা! ই২০ নিয়ে সংসদে বড় দাবি নিতিন গড়করির

কলকাতা: পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর (E20) সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। তবে এবার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সংসদে জোরালো যুক্তি পেশ করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি। তিনি জানান, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে কোনো গাড়ির ইঞ্জিন বিকল বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো উপযুক্ত প্রমাণ মেলেনি।
ইঞ্জিন কি সত্যিই খারাপ হচ্ছে?
লোকসভায় এক লিখিত জবাবে গড়করি জানান, গত আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রায় ২০ কোটির বেশি দু’চাকা গাড়ি এবং ৩ কোটির বেশি পেট্রোল গাড়ি E15+ ও E20 পেট্রোলে নির্দ্বিধায় চলছে। দেশের একটি বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার সার্ভিসিং তথ্যের উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৬ আর্থিক বছরে প্রায় ২.৮৪ কোটি গাড়ি সার্ভিসিং করা হয়েছে, যার মধ্যে ১.৫ কোটি ছিল পুরোনো মডেলের গাড়ি। তবে ইথানলযুক্ত পেট্রোল ব্যবহারের কারণে ফুয়েল ট্যাঙ্কে জং ধরা, ইঞ্জিন বিকল হওয়া বা কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ইথানল না থাকলে পেট্রোলের দাম হতো ১২৫ টাকা!
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, বিশ্ববাজারে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক অস্থিরতার মাঝে পেট্রোলে ইথানল না মেশানো হলে দেশে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি অন্তত ১২৫ টাকায় পৌঁছে যেতে পারত। ইথানল ব্যবহারের ফলে দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে:
- বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: পেট্রোলে ইথানল মেশানোর ফলে দেশের প্রায় ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে।
- আমদানি হ্রাস: প্রায় ৩১৭ লক্ষ টন অপরিশোধিত তেল কম আমদানি করতে হয়েছে।
- পরিবেশ সুরক্ষা: বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৯৫২ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গমন কমানো সম্ভব হয়েছে।
- কৃষকদের আর্থিক লাভ: এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের কৃষকদের হাতে অতিরিক্ত ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা পৌঁছেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ‘E20 জনতা পার্টি’ বা বিভিন্ন প্রতিবাদীর দাবির মুখে কেন্দ্রীয় সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিল—ইথানল মিশ্রণ ভারতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত লাভজনক এবং গাড়ির সুরক্ষাতেও কোনো প্রভাব ফেলছে না।