‘দমবন্ধ’ পরিবেশ বনাম NDA প্রতিশ্রুতি: এনসিপিআই-এর ঐক্যের দাবির আড়ালে কি বড় ভাঙনের ইঙ্গিত?

সাংসদদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভেদের খবর সম্পূর্ণ খারিজ করল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)। দলের পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এনসিপিআই-এর সংহতি নিয়ে যে খবর রটানো হচ্ছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’। তবে দলের তরফে এই বিবৃতি দেওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক অলিন্দে জল্পনার পারদ কিন্তু থামছে না।
বিবৃতিতে এনসিপিআই দাবি করেছে, তাদের সব সাংসদ সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থে তারা একযোগে কাজ করছেন। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ (NDA) জোটের অংশ হিসেবে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যপূরণে দল পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আড়ালে ক্ষোভ ও ব্যাকফুটে থাকা সাংসদরা
দল আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যের কথা বললেও, অন্দরের চিত্রটি অন্যরকম বলে দাবি সূত্রগুলোর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রে জানা গেছে, দলবদলের পর থেকে এনসিপিআই-এর বেশ কয়েকজন সাংসদ এক প্রকার ‘দমবন্ধ’ পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে উৎসাহী, আবার একাংশ তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজছেন। নিজের নিজের লোকসভা কেন্দ্রে গিয়েও এই সাংসদেরা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন বলে খবর।
বৈঠক, অনুপস্থিতি ও সৌগত রায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে:
- গত মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় ফোনে আরও কয়েকজন সাংসদের সঙ্গে শুভেন্দুর কথা হয়।
- বুধবার এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে কাকলি ঘোষদস্তিদারকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঠিক পাশের সারিতে বসতে দেখা গেলেও শতরূপা, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জুন মালিয়াদের পাশে খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠান বা আবু তাহের খানদের অনুপস্থিতি স্পষ্ট নজরে এসেছে।
- অন্যদিকে, জেপি নাড্ডার সঙ্গে লাঞ্চের খবর রুটিন সাক্ষাত বলে খারিজ করলেও, এনসিপিআই সাংসদ সৌগত রায় বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই গঠন ও এনডিএ-তে যোগ দেওয়াটা দলের ২০ জন সাংসদের অনেকেরই মনঃপূত হয়নি। এর মধ্যে সংখ্যালঘু সাংসদ ছাড়াও অন্যরাও রয়েছেন এবং তাঁদের অনেকেই ফের তৃণমূলে ফেরার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিআই যে বিবৃতি জারি করেছে তা মূলত দলে বড়সড় ফাটল ঢাকা দেওয়ারই একটি রাজনৈতিক কৌশল।