“জিভ কেটে গেলে কি দাঁত ভেঙে দেব?” কিশোরীর গালির জবাবে মোদীর মোক্ষম চাল, ক্ষমা চাইল ১৫ বছরের রুচিকা!

“জিভ কেটে গেলে কি দাঁত ভেঙে দেব?” কিশোরীর গালির জবাবে মোদীর মোক্ষম চাল, ক্ষমা চাইল ১৫ বছরের রুচিকা!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করেছিল ১৫ বছরের এক আন্দোলনকারী কিশোরী। তবে তার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে এক অনন্য উদারতা দেখালেন প্রধানমন্ত্রী। আন্দোলনকারীদের ‘দুষ্টু বাচ্চা’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতি স্নেহের হাত বাড়িয়ে দিলেন তিনি। মোদীর এই ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে আসার পরপরই ভুল বুঝতে পেরে হাত জোড় করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে অভিযুক্ত কিশোরী।

কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী?

সম্প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় দিল্লির যন্তর মন্তরের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খোলেন নরেন্দ্র মোদী। জেন জি (Gen Z) প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখানোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন:

“যন্তর মন্তরে কিছু ছোট ছেলেমেয়ে আমাকে ও আমার মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছে। আমাদের দেশের মেয়েরা কীভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে, তা ভেবে কষ্ট হয়। কিন্তু ছোটদের শাস্তির মুখে ঠেলে বা আদালতে টেনে সমস্যার সমাধান হয় না। ভুল শোধরানোর এই তো বয়স। ওদের বুকে টেনে নিয়ে সঠিক রাস্তা দেখানোই আমাদের কর্তব্য।”

কথার মাঝে একটি রূপক টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খাবারের সময় ভুলবশত জিভ দাঁতের চাপায় কেটে রক্ত বের হলে, আমরা কিন্তু দাঁত ভেঙে ফেলি না। কারণ দাঁত ও জিভ দুটোই আমাদের। ঠিক তেমনই এই বাচ্চারাও তো আমাদেরই সন্তান। তাই সব ভুলে দেশের স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে চলতে হবে।”

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?

সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (CJP) আন্দোলন চলাকালীন ১৫ বছরের রুচিকা সিং নামে এক কিশোরী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিজনক কথা বলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ছড়াতেই দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক অবশ্য জানান, তাঁরা ব্যক্তি আক্রমণ সমর্থন করেন না, তবে অহিংস মিম বা রসিকতাকে প্রশাসন কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী কিশোরী

প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও বার্তার পর তীব্র অনুশোচনায় ভোগে ১৫ বছরের রুচিকা সিং। নতুন একটি ভিডিও জারি করে হাত জোড় করে সে বলে:

  • “বন্ধুদের সঙ্গে আবেগের বশে আন্দোলনস্থলে গিয়ে ওই ভুল কাজ করে ফেলেছিলাম। আমি যা বলেছি তা ক্ষমার অযোগ্য। এটি আমার জীবনের প্রথম ও শেষ ভুল। আমি চরম লজ্জিত এবং নিজের পরিবারের মুখোমুখি হতে পারছি না। গোটা দেশের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *