রবীন্দ্র সদনে জয় গোস্বামীকে অপমান: “অপমানিত আমিও”—তসলিমার আক্ষেপ, ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে বিস্ফোরক কবি!

রবীন্দ্র সদনে জয় গোস্বামীকে অপমান: “অপমানিত আমিও”—তসলিমার আক্ষেপ, ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে বিস্ফোরক কবি!

দীর্ঘ দু’দশক পর কলকাতায় ফিরে রবীন্দ্র সদনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কিন্তু সেখানে কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে ডাকতেই তৈরি হয় চরম অনভিপ্রেত পরিস্থিতি! দর্শকাসনের একাংশের প্রতিবাদের মুখে পড়ে মঞ্চে না উঠেই ক্ষোভে প্রেক্ষাগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে যান জয় গোস্বামী। এবার সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন এবং জয় গোস্বামী দু’জনেই।

“আমাকও অপমান করা হয়েছে”: আক্ষেপ তসলিমার

রবিবার বাংলা আকাদেমিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তসলিমা নাসরিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, রবীন্দ্র সদনে জয় গোস্বামীর সাথে যা ঘটেছে, তাতে তিনি চরম ব্যথিত। লেখিকার কথায়, “জয়কে ডেকেছিলাম আমিই। তাই এই অপমান শুধু ওঁর নয়, আমারও। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর বাক্‌স্বাধীনতা সবার থাকা উচিত।” তসলিমা আরও জানান, তিনি নিজে জয় গোস্বামীর বাড়িতে গিয়ে দেখা করতে চান।

সাহিত্য জগতে ‘থ্রেট কালচার’! বিস্ফোরক জয় গোস্বামী

তসলিমার সহানুভূতির জবাবে জয় গোস্বামী জানান, লেখিকার এই উপলব্ধিই তাঁর কাছে যথেষ্ট। তবে তসলিমা আদৌ তাঁর বাড়িতে আসতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কবি। সাহিত্য জগতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ‘থ্রেট কালচার’-এর দিকে আঙুল তুলে কবি অভিযোগ করেন, “সাহিত্য ক্ষেত্রে থ্রেট কালচারের প্রধান সহ-পরিচালকই চান না যে তসলিমার সাথে আমার দেখা হোক। তারা এমনভাবে সূচি বানাবে যাতে উনি আসতে না পারেন।” এমনকি ২০১৩-১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ‘থ্রেট কালচার’-এর কারণেই যে তিনি ২০২৩ সালে অবসর নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, সে কথাও প্রথমবার প্রকাশ্যে আনেন কবি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: ‘নীরবতার খেসারত’

এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলাও শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্যনেত্রী ও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শনিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “কবি-সাহিত্যিকরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন—এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু বিগত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের একাধিক ইস্যুতে জয় গোস্বামীর নীরবতা সাধারণ মানুষকে ব্যথিত করেছে। শনিবারের প্রতিবাদ সেই জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *