দুবাইয়ে বিলাসবহুল গা-ঢাকা টুলুর, দেশে বাজেয়াপ্ত পেট্রোল পাম্প-সিল অফিস! বন্ধ ৮টি বেআইনি খাদান

দুবাইয়ে বিলাসবহুল গা-ঢাকা টুলুর, দেশে বাজেয়াপ্ত পেট্রোল পাম্প-সিল অফিস! বন্ধ ৮টি বেআইনি খাদান

বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও কেজির পর কেজি সোনা উদ্ধারের পর রাজ্যজুড়ে তুমুল চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছিলেন বীরভূমের বিতর্কিত পাথর ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। তাঁর একাধিক শাগরেদ ও সহযোগী ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেও মূল অভিযুক্ত টুলু মণ্ডলের কোনো হদিশ মিলছিল না। এবার জানা গেল, গ্রেফতারি এড়াতে রাজ্য ছেড়ে সুদূর দুবাইয়ে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। সেখানে গর্ভবতী মেয়ের বাড়িতে আপাতত বহাল তবিয়তে দিন কাটাচ্ছেন এই ফেরারি ব্যবসায়ী।

তবে দুবাইয়ে টুলু আরামে থাকলেও দেশে তাঁর বেআইনি সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে তৎপর পুলিশ ও প্রশাসন। গত শনিবার রাতে পুলিশ আধিকারিকরা মিনার মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে বীরভূমের মহম্মদবাজারের সোঁতশালে টুলুর মূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালান। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বাজেয়াপ্ত করে অফিসটি সিল করে দেয় তদন্তকারীরা।

প্রশাসন সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের ব্যবসার কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স আদৌ ছিল কিনা, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এতদিন নিজের ক্ষমতার জোরে একাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এছাড়া, তাঁর পাথর ব্যবসা ও পার্কিং জোন তৈরিতে বিশাল পরিমাণ সরকারি খাস জমি জবরদখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

তদন্তে নেমে একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য পাচ্ছে প্রশাসন:

  • মেয়ের পেট্রোল পাম্প সিজ: বিপুল বেআইনি সম্পত্তির পাশাপাশি টুলুর মেয়ের নামে থাকা একটি পেট্রোল পাম্প সিল করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে টুলুর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।
  • হিসাবরক্ষকদের আটক: ঘটনার শিকড়ে পৌঁছাতে টুলু মণ্ডলের দুই হিসাবরক্ষককে (Accountant) আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
  • ১৬ লাখ সিএফটি পাথর বাজেয়াপ্ত: শনিবার মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের একটি পার্কিং এলাকা থেকে বেআইনিভাবে মজুত করা প্রায় ১৬ লক্ষ সিএফটি (কিউবিক ফুট) পাথর বাজেয়াপ্ত করেছে ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর।

বীরভূমে বেআইনি খাদান বন্ধে কড়া প্রশাসন: টুলু মণ্ডলের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর পুরো জেলায় অবৈধ খাদানগুলির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। মহম্মদবাজার ব্লকের দেওয়ানগঞ্জ মৌজায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আনন্দ বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে টুলুর ভাগ্নে আপেল মোর্তাজা সহ শেখ করিবুল, মনোজ টুডু, সারতাজ মোল্লা, শুভধন টুডু ও সুনীল সোরেনের মতো ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের মোট ৮টি অবৈধ পাথর খাদান বন্ধের নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসেই একই এলাকায় আরও ৯টি অবৈধ খাদান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন।

প্রশাসনের সাফ বার্তা, জেলা জুড়ে বেআইনি পাথর ব্যবসা ও অবৈধ খাদান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে আগামী দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ ও লাগাতার অভিযান চালানো হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *