চিতার ডেরায় চোরাশিকারের ছায়া! কুনোয় ১০ লেপার্ড খুন, ধৃত ‘গব্বর-হুব্বা’

চিতার ডেরায় চোরাশিকারের ছায়া! কুনোয় ১০ লেপার্ড খুন, ধৃত ‘গব্বর-হুব্বা’

কুনো জাতীয় উদ্যান (মধ্যপ্রদেশ): ভারতে চিতা সংরক্ষণের মূল কেন্দ্র মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন এলাকায় থাবা বসাল চোরাশিকারির দল। ১-২টি নয়, অন্তত ১০টি লেপার্ড বা চিতাবাঘকে নির্মমভাবে হত্যা করে চামড়া ছাড়িয়ে পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ ও বন দপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে ‘হুব্বা’ ও ‘গব্বর’ সহ মোট ১০ জন চোরাশিকারিকে গ্রেপ্তার করেছে।

যেভাবে সামনে এল ঘটনাটি

গত ২৩ জুলাই উত্তরপ্রদেশের আগ্রা সীমান্ত থেকে ৪ জন পাচারকারীকে ১০টি লেপার্ডের চামড়াসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জেরার পর মধ্যপ্রদেশের টাইগার স্ট্রাইক ফোর্স তদন্তে নামে এবং ৩০ জুলাই শেওপুর ও মোরেনা থেকে আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। জঙ্গলের গভীর থেকে উদ্ধার হয় নিহত লেপার্ডগুলির হাড়গোড়।

চোরাশিকারিদের অভিনব কৌশল

বন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুনোর মূল চিতাদের সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি ও কলার আইডি ট্যাকিং থাকায় চিতার কাছাকাছি ঘেঁষেনি শিকারিরা। তারা জঙ্গলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ‘শ্যাডো এরিয়া’ এবং গবাদি পশু চড়ানোর এলাকাগুলোকে টার্গেট করেছিল। গবাদি পশু শিকারের জায়গায় ধাতব ফাঁদ (লেগ হোল মেটাল ট্র্যাপ) পেতে রাখা হতো। পরে লেপার্ড ফাঁদে আটকে পড়লে চামড়া ঠিক রাখতে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হতো।

বন দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আগ্রা পুলিশের তদন্তের আগে মধ্যপ্রদেশ বন দপ্তর এই বিশাল পাচার চক্রের বিন্দুমাত্র টের পায়নি। তবে কর্মকর্তাদের মতে, এরা কোনো পেশাদার অপরাধী ছিল না, ফলে স্থানীয়দের কাছেও সন্দেহজনক মনে হয়নি। অন্যদিকে, তথ্য অধিকার কর্মীরা দাবি করছেন—এটি চিতার নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন। তবে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিতা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে এবং পুরো চক্রটি ধ্বংস করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *