“বাবার অবসরের টাকা নয়, স্কলারশিপ ও লোনেই বস্টনে পড়াশোনা!” আরটিআই-এর জবাবে বিষ্ফোরক অভিজিৎ

“বাবার অবসরের টাকা নয়, স্কলারশিপ ও লোনেই বস্টনে পড়াশোনা!” আরটিআই-এর জবাবে বিষ্ফোরক অভিজিৎ

নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বিদেশে পড়াশোনার বিপুল খরচ কীভাবে তাঁর এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী বাবা জোগাচ্ছেন?—এই প্রশ্ন তুলে সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারসহ একাধিক কর্তৃপক্ষের কাছে আরটিআই (RTI) আবেদন করেছেন সুরতের সমাজকর্মী অমিত তিওয়ারি। তাঁর দাবি, অভিজিতের বাবা ভগবানরাও দীপকে মাসে আনুমানিক ৬০-৬৫ হাজার টাকা পেনশন বা বেতন পেতেন, যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটির মতো ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানে পড়ার খরচ চালানো আসাম্ভব।

এই বিতর্কের জবাবে এবার মুখ খুলেছেন অভিজিৎ দিপকে নিজে। সাংবাদিক বরখা দত্ত-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর পড়াশোনার পেছনে কোনও অঘোষিত পারিবারিক সম্পদ বা বাবার জমানো টাকা নেই। প্রমাণ হিসেবে বস্টন ইউনিভার্সিটির দেওয়া স্কলারশিপের চিঠি দেখিয়ে তিনি বলেন, “আমার পড়াশোনার খরচ চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ এবং এডুকেশন লোনের (শিক্ষাঋণ) টাকায়, যা আমাকে এখনও শোধ করতে হচ্ছে।”

ভবিষ্যতের অর্থসংস্থান ও NEET আন্দোলন

সাক্ষাৎকারে নিজের দল CJP-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন অভিজিৎ। তিনি জানান, দল চালানোর জন্য পরবর্তীতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ক্রাউডফান্ডিং (সাধারণ মানুষের আর্থিক সহযোগিতা)-এর সাহায্য নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে করা আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন। পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক-এর সমর্থনে জুন মাসের শেষে শুরু হওয়া এই আন্দোলন জুলাইয়ে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে তুঙ্গে ওঠে। ২০ জুলাই প্রবল বৃষ্টি ও পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা সংসদের দিকে মিছিল করেন। আন্দোলনের মুখে পড়ে অবশেষে ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। অভিজিতের দাবি, এই পুরো আন্দোলনে সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে জল ও খাবার দিয়ে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *