বন্ধ আলমারি খুলতেই চোখ কপালে! মালদায় ২.৫ কোটির ‘টাকার পাহাড়’, গোনার জন্য আনতে হলো ৩টি মেশিন

রাজ্যে ফের বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো। এবার কেন্দ্রবিন্দু মালদার পুরাতন মালদা থানার মঙ্গলবাড়ি এলাকা। দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশন টিমের যৌথ অভিযানে একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ এবং সোনা। টাকা গোনার জন্য তড়িঘড়ি নিয়ে আসতে হয় ৩টি কারেন্সি কাউন্টিং মেশিন।
কীভাবে এল এই সাফল্য? পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৫ জুলাই দক্ষিণ দিনাজপুরের মেহেন্দ্রীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয় এবং ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের টানা জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে এই পাচারচক্রের মূল আর্থিক লেনদেনের কথা। সেই সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই রবিবার রাতে মঙ্গলবাড়ির একটি বহুতলের তিন তলায় স্পেশাল টিমকে নিয়ে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ।
ফ্ল্যাটের মালিকানা ও রাজনৈতিক বিতর্ক: তদন্তে জানা গেছে, যে ভবনটি থেকে টাকা ও সোনা উদ্ধার হয়েছে, সেটির মালিক দিলীপ সাহা। স্থানীয় সূত্রে দাবি, তিনি একজন সক্রিয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। তবে দিলীপবাবুর দাবি, তিনি পিন্টু সরকার নামের এক ব্যক্তিকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিয়েছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কাজ চলত সে বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা ছিল না। অন্য দিকে, বিরোধী দল বিজেপির তরফে এই ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি তোলা হয়েছে।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি:
- নগদ ও সোনা: শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত আড়াই কোটিরও বেশি নগদ টাকা গোনা শেষ হয়েছে। কিন্তু গণনার কাজ এখনও চলায় অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান। সাথে উদ্ধার হওয়া সোনার সঠিক পরিমাণ জানার চেষ্টা চলছে।
- মূল উদ্দেশ্য: পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই বিপুল পরিমাণ টাকা কোনো আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য মাদক/কফ সিরাপ পাচারচক্রের কালোবাজারির ফল কি না।
পুরো ঘটনার শিকড়ে পৌঁছাতে এবং এই কারবারের মূল হেতুকদের ধরতে তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।