এসটিএফের তুফানি মেগা অভিযান! জইশ যোগে রাজ্যে টানা গ্রেফতারি, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাড়ানোর জোর দাবি
August 3, 202612:17 pm

নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে জইশ-ই-মোহাম্মদ জঙ্গি নেটওয়ার্কের সক্রিয়তার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল বেঙ্গল পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর তদন্তে। এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপ থেকে মূল অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল, ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে সহযোগী আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা মূল তথ্যগুলো একনজরে:
- মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি: ধৃতদের মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি ও নিরাপত্তার সময়সূচি সংক্রান্ত গোপন তথ্য উদ্ধার হয়েছে। এরপরই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ও প্রবীণ নেতাদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা এবং বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও জ্যামার ব্যবহারের দাবি উঠেছে।
- মডেল-অভিনেত্রীদের দিয়ে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র: গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সুন্দরী যুবতী, উঠতি মডেল ও অভিনেত্রীদের জালে তুলে একটি বড় মাপের হানিট্র্যাপ নেটওয়ার্ক তৈরির ছক কষা হচ্ছিল। রাজ্যের অন্তত ৬ জন মন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারকে এই জালে ফাঁসানোর পরিকল্পনা ছিল।
- মন্ত্রীর ছেলেকে ব্ল্যাকমেইল ও অপহরণের ছক: অর্পিতা সরকারকে প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্রে টেনে আনা হয়েছিল। প্রায় চার মাস ধরে তিনি হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। ওই যুবকের থেকে মোটা টাকা আদায় এবং প্রয়োজনে তাঁকে অপহরণ করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।
- পাক হ্যান্ডলারদের মাস্টারপ্ল্যান: এসটিএফের আইজি গরব শর্মা জানান, হামিম সরাসরি পাকিস্তানে থাকা জঙ্গি হ্যান্ডলারদের থেকে নির্দেশ পেতেন। এমনকি দিল্লিতে জনতা পার্টির জমায়েতে ঢোকার জন্য জাল পুলিশি পোশাক জোগাড় করার দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল।
আপাতত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বেঙ্গল এসটিএফ। এই চক্রের সাথে আরও কতজন জড়িত এবং পাকিস্তান কেন্দ্রিক জঙ্গি সংগঠনের সংযোগ কতটা গভীর, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।