“বাংলা এখন কারাগার!” ২৬ দফায় বিজেপি সরকারকে তুলোধোনা করে ফের হুঙ্কার মমতার

একসময়ের ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা আর একের পর এক দলত্যাগের টানাপোড়েন—সব কাটিয়ে ফের স্বমহিমায় লড়াইয়ের ময়দানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে একটি লাইভ ভিডিও বার্তায় বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে উগরে দিলেন তীব্র ক্ষোভ। সাফ জানিয়ে দিলেন, যত বাঁধাই আসুক, তিনি দমার পাত্রী নন।
মৌলিক অধিকার খর্ব ও আদালতের দ্বারস্থ
ভিডিও বার্তায় মমতা অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ও তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাকে রাস্তায় নামতে দেওয়া হচ্ছে না, কর্মসূচির অনুমতি মিলছে না। বাধ্য হয়ে আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে হচ্ছে।” সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন— “বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।”
কড়া চ্যালেঞ্জ ও দুর্নীতির অভিযোগ
ক্ষমতার লোভ নেই দাবি করে তিনি সরাসরি বর্তমান বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি চেয়ারকে কেয়ার করি না, মানুষকে কেয়ার করি। যত আটকাবেন, দ্বিগুণ শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াব। লড়ব, গড়ব এবং জিতব!”
একইসঙ্গে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঘরে বসে দাদাগিরি চলছে এবং বান্ডিল বান্ডিল টাকা গোনা হচ্ছে। নিজের ব্যক্তিগত সততা তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারি মাইনে বা পেনশন তিনি কোনোদিনই নেননি, বইয়ের রয়্যালটির টাকায় চলতেন। অথচ চলতি বছরে চক্রান্ত করে সেই রয়্যালটির টাকা থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
নারী সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গোটা রাজ্যকে একটি “কারাগারে” পরিণত করা হয়েছে। নির্যাতিতাদের পাশে দাঁড়াতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বার্তার একদম শেষলগ্নে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এক গভীর বার্তা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, “মাঝে মাঝে নীরবতা বজায় রাখা ভালো, কিন্তু বাঁধ ভাঙলে যেমন নদীর গতি থামানো যায় না, লড়াইও ঠিক সেভাবেই তার নিজস্ব পথ করে নেবে।”