অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লুর মহাবিপর্যয়: বিলুপ্তির মুখে ৪০০ দুর্লভ প্রজাতি, সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বহু প্রতীক্ষিত ও আশঙ্কাজনক বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দেশটিতে এই মারাত্মক সংকটের কেবল শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক ফেডারেল মূল্যায়নে উঠে এসেছে—অত্যন্ত সংক্রামক H5N1 এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে উচ্চ বা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৪০০টি স্থানীয় পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী। বিশেষজ্ঞরা একে আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বড় জীববৈচিত্র্য বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন।
চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটি এবং বার্ডলাইফ অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় তৈরি করা এই সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী:
- ৪০০ প্রজাতি ও দ্বীপের পাখি বিপন্ন: স্থানীয় পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর পাশাপাশি ৮০টিরও বেশি বিপন্ন প্রজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অত্যন্ত বিপন্ন ‘হেরাল্ড পেট্রেল’-সহ অন্তত পাঁচটি দ্বীপ-প্রজননকারী সামুদ্রিক পাখি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরাও আক্রান্ত: সাধারণত এটি পাখিদের রোগ হলেও H5N1 স্ট্রেনটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদেরও সংক্রমিত করছে। আইকনিক লিটল পেঙ্গুইন, ডলফিন, পশমযুক্ত সিল, কোউল এবং বিপন্ন তাসমানিয়ান ডেভিল এখন চরম হুমকির মুখে। বিশ্বজুড়ে সিল, ভাল্লুক, এমনকি দুগ্ধজাত গবাদি পশুসহ শতাধিক স্তন্যপায়ী প্রজাতিতে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কেপ জাফায় বেশ কয়েকটি মৃত ‘গ্রেটার ক্রেস্টেড টার্ন’ পাখির শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর কর্মকর্তা ও গবেষকরা অ্যালার্ট জারি করেছেন। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, ভিক্টোরিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডজুড়ে শতাধিক বন্য পাখিতে H5 বার্ড ফ্লুর উপস্থিতি মিলেছে। তবে স্বস্তির বিষয়, পোল্ট্রি খামার বা কৃষিশিল্পে এখনও এই সংক্রমণ ছড়ায়নি।
বন্য পাখিরা হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করায় এই সংক্রমণ রোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে এতদিন অস্ট্রেলিয়া ভাইরাসটি থেকে রক্ষা পেলেও, এখন এটি দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত জরুরি পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি পশুর রোগ নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক দশকের অন্যতম প্রধান সংরক্ষণ সংকট।