আকাশে ট্রাম্পের হেলিকপ্টার, মাত্র কয়েক ফুট দূরে যাত্রীবাহী বিমান! বড়সড় বিপদের মুখে ‘মেরিন ওয়ান’?

আকাশে ট্রাম্পের হেলিকপ্টার, মাত্র কয়েক ফুট দূরে যাত্রীবাহী বিমান! বড়সড় বিপদের মুখে ‘মেরিন ওয়ান’?

আমেরিকার প্রাক্তন ও বর্তমান প্রেসিডেন্টদের নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। গল্ফ কোর্সে সশস্ত্র সন্দেহভাজন গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাঝআকাশে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে। প্রেসিডেন্সিয়াল হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ (Marine One)-এর বিপজ্জনকভাবে কাছে চলে এলো একটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান।

দুটি উড়ানের মধ্যে নির্ধারিত যে নিরাপদ দূরত্ব বা ‘সেফটি মার্জিন’ বজায় রাখার কথা, তা লঙ্ঘন করায় ঘটনার তদন্তে নেমেছে মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)।

আসলে কী ঘটেছিল?

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (৪ অগস্ট)। ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউস থেকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ-এর উদ্দেশ্যে ‘মেরিন ওয়ান’-এ রওনা হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক একই সময়ে ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রেগান ন্যাশনাল বিমানবন্দর থেকে টেকঅফ করে এনভয় এয়ারের ফ্লাইট ৩৭৪২।

উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, আকাশপথে দুই উড়ানের মধ্যে নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় ছিল না। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল না এবং উভয় উড়ানই নিরাপদে পৌঁছায়, তবুও আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী এই বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

কী এই ‘লস অব সেপারেশন’?

FAA-র নিয়মানুসারে, বিমানবন্দর সংলগ্ন আকাশসীমায় দুটি বিমানের মধ্যে অনুভূমিকভাবে (Horizontal) অন্তত ১.৫ মাইল এবং উল্লম্বভাবে (Vertical) ৫০০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কয়েক মুহূর্তের জন্য এই নিয়ম ব্যাহত হয়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ‘মেরিন ওয়ান’-এর পাইলট দ্রুত গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন। এমনকি নামার অপেক্ষায় থাকা আরেকটি বিমানকেও সাময়িকভাবে আকাশে চক্কর কাটতে বলা হয়।

কোথায় গলদ? এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের গাফিলতির সন্দেহ

প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্পের হেলিকপ্টার টেকঅফের সময় রেগান বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক উড়ান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা থাকলেও তা সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। একই সময়ে মেরিন ওয়ানের পাশাপাশি যাত্রীবাহী বিমানকেও টেকঅফের সবুজ সঙ্কেত দেওয়ায় এই বিভ্রাট ঘটে।

হোয়াইট হাউস ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো মুহূর্তেই বিপদের মুখে পড়েননি।” সিক্রেট সার্ভিস, মিলিটারি এবং FAA যৌথভাবে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তবে ভবিষ্যতে যাতে এরকম ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য একটি বিশেষ ‘সেফটি রিভিউ টিম’ গঠন করা হয়েছে।

কেন এই ঘটনা এত তাৎপর্যপূর্ণ?

২০২৫ সালে ওয়াশিংটনের আকাশে সেনা হেলিকপ্টার ও বাণিজ্যিক বিমানের সংঘর্ষে ৬৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রেসিডেন্টদের চলাচলের ক্ষেত্রে এয়ার স্পেস বা আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখার নিয়ম আরও কড়া করা হয়। ট্রাম্পের ‘মেরিন ওয়ানের’ ক্ষেত্রে সেই প্রোটোকলে কীভাবে ফাঁক থেকে গেল, তা নিয়ে এখন তোলপাড় পুরো মার্কিন প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *