রাখে হরি মারে কে! চন্দননগর আদালতে ভেঙে পড়ল বিশালাকার গাছ, অলৌকিক জয়ী মৃত্যু

‘রাখে হরি, মারে কে!’— শুক্রবার সকালে চন্দননগর আদালত চত্বরে ঘটে যাওয়া এক অলৌকিক ঘটনায় এই প্রবাদটিই ফের সত্যি প্রমাণিত হলো। ভোর থেকেই নাগাড়ে বৃষ্টির কারণে আদালতের স্টাম্প ভেন্ডার সুব্রত মল্লিক সকাল পৌনে দশটা নাগাদ কোর্টে পৌঁছালেও নিজের গুমটি দোকানটি খোলেননি। কারণ, তাঁর দোকানের ঠিক পাশেই থাকা একটি পুরনো বিশালাকৃতির তেঁতুল গাছ বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়েছিল। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে— এই আশঙ্কায় তিনি পাশে এক আইনজীবীর সেরেস্তায় গিয়ে বসেন।
সুব্রত বাবুর সেই আশঙ্কাই শেষমেশ সত্যি হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বিশাল গাছটি। দোকান বন্ধ থাকায় সেখানে কোনো মানুষজন ছিলেন না, ফলে এক নিশ্চিত বড়সড় রক্তপাত ও প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
আদালতের আইনজীবীদের দাবি, গাছটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ ছিল। বারবার নাজিরকে এ বিষয়ে জানানো সত্ত্বেও কোনো স্থায়ী সমাধান করা হয়নি; শুধু নামমাত্র কয়েকটি ডাল কেটে দায় সারা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টির দরুন গাছের গোড়া আলগা হয়েই এই বিপর্যয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগে সোচ্চার হয়ে আইনজীবীরা একদিনের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি জেলা জজকে জানানো হয়েছে। বেলা বাড়লে অবশেষে গাছ কেটে সরানোর কাজ শুরু হয়।