মিড-ডে মিলে ফিরছে ডিম: সপ্তাহে দু’দিন ডিমের দায়িত্ব এবার সরাসরি স্কুলের হাতে!

মিড-ডে মিলে ফিরছে ডিম: সপ্তাহে দু’দিন ডিমের দায়িত্ব এবার সরাসরি স্কুলের হাতে!

স্কুলের মিড-ডে মিলে ছোটদের সপ্তাহে দু’দিন ডিম খাওয়ানোর দায়িত্ব আপাতত সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার শিক্ষা ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। মূলত যে সমস্ত স্কুলে ‘ইস্কন’ মিড-ডে মিল সরবরাহ করে, সেই সব স্কুলের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহে দু’দিন ডিমের জন্য শিক্ষার্থী পিছু বরাদ্দ করা হয়েছে ১৬ টাকা (অর্থাৎ প্রতি ডিমের জন্য ৮ টাকা)।

আপাতত এই খরচের টাকা স্কুলের ‘কম্পোজিট গ্রান্ট’ থেকে মেটাতে হবে এবং পরবর্তীতে সরকারের কাছে বিল জমা দিয়ে সেই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।

শিক্ষা দপ্তর প্রস্তাব দিয়েছিল যে কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছ থেকে সেদ্ধ ডিম কিনে সরবরাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে মাত্র ৮ টাকায় ডিম কেনা, সেদ্ধ করা ও সরবরাহের খরচ চালানো প্রায় আসাম্ভব বলেই মনে করছেন অনেকে। ফলে কোনো সংস্থাই এই শর্তে রাজি হতে চাইছে না, যা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নদিয়ার ‘হরিণঘাটা ফার্ম’ থেকে সরাসরি ডিম কেনার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

এছাড়া, কম পড়ুয়া রয়েছে এমন স্কুলগুলোতে ডিম সেদ্ধ করার জন্য ‘ইলেকট্রিক হিটার’ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, রান্নার কাজের সুবিধার্থে প্রতি ৫০ জন পড়ুয়া পিছু ১ জন এবং ৫০০ জন পড়ুয়ার জন্য ৬ জন রাঁধুনি ও সহায়িকা নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, কলকাতা ও তার আশেপাশের এলাকার স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইস্কনের ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’-কে দেওয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। ইস্কনের নিয়ম অনুযায়ী নিরামিষ খাবার সরবরাহ করায় মেনু থেকে ডিম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে পড়ুয়ারা সপ্তাহে দু’দিন ডিম পাবেই। এবার পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হলো, সেই ডিম সেদ্ধ করে পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে স্কুলগুলোই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *