নারী নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের সঙ্গে জাতীয় মহিলা কমিশনের হাই-লেভেল বৈঠক: এল একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
August 7, 20269:00 pm

রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, নারী নির্যাতনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মানব পাচার রোধে পুলিশকে আরও সক্রিয় ও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানাল জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। শুক্রবার কলকাতায় রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর।
বৈঠকের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ ও সুপারিশসমূহ:
- নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত ও বিচার: ধর্ষণ, পকসো (POCSO), গার্হস্থ্য হিংসা ও মানব পাচারের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পেশাদার ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত সাজা নিশ্চিত করা যায়।
- মানব পাচার রোধ: বিশেষ করে সীমান্ত এলাকাগুলিতে মানব পাচার ঠেকাতে বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- পুজোয় বিশেষ নজরদারি: আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে মহিলাদের সুরক্ষায় কৌশলগতভাবে পুলিশ মোতায়েন, স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
- পুলিশের আচরণ ও ভাবমূর্তি: বিপদে পড়লে মহিলারা যাতে নির্ভয়ে পুলিশের কাছে আসতে পারেন, সে জন্য পুলিশ কর্মীদের আচরণ আরও সহানুভূতিশীল ও সংবেদনশীল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- অ্যাসিড বিক্রি ও পুনর্বাসন: বাজারে অ্যাসিড বিক্রির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যাসিড আক্রান্তদের দ্রুত আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
- অন্যান্য পদক্ষেপ: বিভিন্ন স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলার দ্রুত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) জমা দেওয়া, অপরাধীদের কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা এবং বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডিজি (সিআইডি) এন. রমেশ বাবু, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ, আইজি (হেডকোয়ার্টার্স) রশিদ মুনির খান, সাইবার ক্রাইমের অতিরিক্ত ডিজি অশোক প্রসাদসহ অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।