‘এমন আপ্যায়ন আগে পাইনি!’ নবান্নে শুভেন্দুর ভূরিভোজে মুগ্ধ ফিরহাদ-ঋতব্রতরা

‘এমন আপ্যায়ন আগে পাইনি!’ নবান্নে শুভেন্দুর ভূরিভোজে মুগ্ধ ফিরহাদ-ঋতব্রতরা

বিশেষ প্রতিবেদন: একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভই হলো বিরোধীদের মতামত ও তাদের উপস্থিতি। সেই বিরোধীদের যথাযোগ্য সম্মান ও উষ্ণ সংবর্ধনা জানিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাজ্যর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে বিরোধী দলের বিধায়কদের যেভাবে তিনি আপ্যায়ন করলেন, তাতে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলকেও পেছনে ফেলে দিয়েছেন বলে মনে করছেন উপস্থিত বিরোধীরা।

এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার দুপুরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৩ জনের একটি বিরোধী প্রতিনিধি দল নবান্নে যান। বৈঠকের পাশাপাশি তাঁদের জন্য ছিল এক এলাহি খাবারের আয়োজন। ফিশ রোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ, মিষ্টিসুখ, কুকিজ এবং চা-কফির মতো বৈচিত্র্যময় পদের ডালি সাজিয়ে তাঁদের আপ্যায়ন করা হয়। আলোচনার পাশাপাশি পেটপুজো—দুটিই চলে সমান তালে।

এই ঘটনা বঙ্গ রাজনীতির প্রায় এক দশক আগের একটি স্মৃতি উসকে দিয়েছে। ২০১৪ সালে বাম প্রতিনিধি দল নবান্নে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে দেখা করতে গেলে তাঁদের ‘ফিশ ফ্রাই ও কফি’ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ‘ফিশ ফ্রাই ডিপ্লোমেসি’ নামে পরিচিতি পায়।

বৈঠক শেষে বিধানসভায় ফিরে বিরোধীরা শুভেন্দুর এই আন্তরিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে ফিরহাদ হাকিম প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, “আমি জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এই তিন মুখ্যমন্ত্রীকেই দেখেছি। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর থেকে যে উষ্ণ আপ্যায়ন আমরা আজ পেলাম, তা এক কথায় অভূতপূর্ব। শুনেছি বিধান রায় খুব অতিথিপ্রিয় ছিলেন, তবে আজকের এই অভিজ্ঞতা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।”

দলীয় মতভেদ ভুলে নবান্নের এই সৌজন্যের ছবি বঙ্গ রাজনীতিতে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *