তৃণমূল ছাড়ার আসল কারণ ফাঁস! নবান্নে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বিস্ফোরক ‘মুখ্যমন্ত্রী’ শুভেন্দু

নবান্নে বিরোধী বিধায়কদের সাথে খোলামেলা আলাপচারিতায় পুরনো স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১.৫ ঘণ্টার এই আড্ডায় সাবেক রাজনৈতিক সহকর্মীদের সামনে তিনি তুলে ধরলেন তৃণমূল ছাড়ার নেপথ্য কাহিনী, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব নস্টালজিক পরিবেশ।
শুক্রবার নবান্নে এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৩ জন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তবে প্রশাসনিক বৈঠকের গণ্ডি পেরিয়ে সেই সভা দ্রুতই এক উষ্ণ সৌজন্য সাক্ষাতে পরিণত হয়। ফিশরোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ ও চায়ের এলাহি আপ্যায়নে অতিথিদের বরণ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠক চলাকালীন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়দের দেখে পুরনো দিনে ফিরে যান শুভেন্দু। অতীত স্মৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন:
“আমি ও প্রয়াত সুব্রতদা ক্যাবিনেট বৈঠকে কত বিষয়ে আলোচনা করতাম, তা ববিদারা (ফিরহাদ হাকিম) ভালো করেই জানে।”
তৃণমূল ছাড়ার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করে শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “২০১১ সালের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় হঠাৎই আমার হাত থেকে মাইক কেড়ে অন্য একজনকে দেওয়া হয়। তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম এই দলে আর থাকা যাবে না। তৃণমূলে তখন ‘ভাইপো রাজ’ শুরু হয়েছিল, সেসব কি ভোলা যায়?”
বৈঠক শেষে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার কক্ষে এসে ফিরহাদ হাকিম মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়ন ও আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আমি জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—তিনজন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেছি। কিন্তু শুভেন্দুর মতো এত আন্তরিকতা আগে কখনও দেখিনি। শুনেছি বিধান চন্দ্র রায়ও নাকি এইরকমই আন্তরিক ছিলেন।”