‘আমি আছি, ভয় নেই!’ এনডিএ সাংসদদের ভরসা মোদীর, ভোটার তালিকায় ‘মানবিক’ শুভেন্দু

‘আমি আছি, ভয় নেই!’ এনডিএ সাংসদদের ভরসা মোদীর, ভোটার তালিকায় ‘মানবিক’ শুভেন্দু

একই দিনে দেশের দুই প্রান্ত থেকে রাজ্য রাজনীতির দুই রাজনৈতিক শিবিরের কাছে এলো আশ্বাসের বার্তা। একদিকে দিল্লির ৭, লোককল্যাণ মার্গে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত থেকে আশ্বাস পেলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদেরা। অন্যদিকে, কলকাতার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আশ্বস্ত হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিধায়কদের দল।

১. দিল্লিতে মোদীর দরবারে ‘বেসুরো’ সাংসদ ও সুদীপেরা

সংসদের অচলাবস্থার মাঝেই শুক্রবার সকালে এনডিএ-র নতুন ৪০ জন সাংসদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই দলে ছিলেন এনসিপিআই-এর ২০ জন সাংসদও।

  • আশ্বাস ও পরামর্শ: মোদী সাংসদদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি আছি, চিন্তা করার কিছু নেই। এনডিএ একটি পরিবারের মতো, সবাই সঠিক সম্মান পাবেন।” এলাকা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে সরাসরি তাঁর দফতরে (PMO) যোগাযোগের কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে সংসদ সুষ্ঠুভাবে চালানো এবং ৪০ পেরোনো সাংসদদের যোগাসন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
  • ‘বেসুরো’ সাংসদদের উপস্থিতি: গত কয়েকদিন ধরে জল্পনায় থাকা তিন সংখ্যালঘু সাংসদ— আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পঠানও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে আবু তাহের জানান, রাজ্যের সংখ্যালঘুদের নানা বঞ্চনার কথা তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন।

২. নবান্নে শুভেন্দুর মুখোমুখি ঋতব্রতেরা (এসআইআর প্রসঙ্গ)

একই দিনে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল এসআইআর (SIR) এবং রাজ্যের প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সংক্রান্ত সমস্যা।

  • দাবি ও আবেদন: বিধায়কদের তরফে জানানো হয়, সাধারণ ও নিরক্ষর মানুষ কীভাবে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে হয় জানেন না। তা ছাড়া গোটা রাজ্যে মাত্র একটি ট্রাইবুনাল (জোকা) থাকায় বহুদূর থেকে এসে আবেদন করা আসাম্ভব। তাই জেলায় জেলায় ট্রাইবুনাল গড়ে তোলার এবং আবেদন করার সময়সীমা আরও ৬ মাস বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।
  • শুভেন্দুর আশ্বাস: মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমার সরকার চায় না কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ুক।” একই সঙ্গে ধর্মস্থানে নির্ধারিত ডেসিবেলের (৬৫ ডেসিবেল) নিচে মাইক বাজানো এবং পুরনো আইনি রায়ের পুনর্বিবেচনা নিয়েও শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁদের ইতিবাচক আলোচনা হয়। এই বিষয়ে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের (High Court) দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন বিধায়কেরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *