এসসি-এসটি সংরক্ষণে ‘ক্রিমি লেয়ার’ কেন নয়? মোদী সরকারের বিস্ফোরক জবাব!

এসসি-এসটি সংরক্ষণে ‘ক্রিমি লেয়ার’ কেন নয়? মোদী সরকারের বিস্ফোরক জবাব!

পরিবারের বার্ষিক আয় বৃদ্ধি পেলেই কি কোনো তফসিলি জাতি বা তফসিলি উপজাতি সদস্য সংরক্ষণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন? ওবিসি-দের মতো তাঁদের ক্ষেত্রেও কি প্রযোজ্য হওয়া উচিত ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতি? সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিল—এসসি ও এসটি সংরক্ষণে এই নীতি কোনোভাবেই প্রয়োগ করা যায় না। কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতের সংরক্ষণ নীতি শুধুমাত্র কোনও পরিবারের বর্তমান আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন সামাজিক বৈষম্য, অস্পৃশ্যতা, ঐতিহাসিক বঞ্চনা এবং জনজাতিগত পিছিয়ে থাকার গভীর ইতিহাস। ওবিসি এবং এসসি-এসটি সামাজিক অনগ্রসরতার ভিত্তি সংবিধানের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদে পৃথকভাবে উল্লেখ থাকায় দু’টিকে একই দাঁড়িপাল্লায় মাপা অনুচিত।

ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বার্ষিক আয় আট লক্ষ টাকার বেশি হলে ‘ক্রিমি লেয়ার’-এর আওতায় এনে সংরক্ষণের সুযোগ থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু এসসি ও এসটি-র ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য না করার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে শক্ত যুক্তি তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। সরকারের বক্তব্য, কোনও পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলেই সমাজে তাঁর থেকে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য বা ঐতিহাসিক বঞ্চনার বাস্তবতা রাতারাতি মুছে যায় না। ২০২৪ সালের আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণের পর সংরক্ষিত শ্রেণির মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা অংশকে আলাদা করার দাবি জোরালো হলেও, বিস্তারিত আর্থ-সামাজিক সমীক্ষা ছাড়া এই নীতি পরিবর্তন করা বিপজ্জনক হতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্র। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত স্থান দেশের সংসদ বলে জানিয়েছে সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *