সুপ্রিম কোর্টের সাফ নির্দেশ পালন না করলে সোজা জেল! ডিএ মামলায় কাদের বিরুদ্ধে এল এই চরম হুঁশিয়ারি?

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মামলার শুনানিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আদালত গঠিত মনিটরিং কমিটিকে অবিলম্বে ডিজিটাল মাধ্যমে রিপোর্ট জমা দিতে হবে এবং সেই রিপোর্টের কপি মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে। আগামী ১৮ তারিখে এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ধার্য করা হয়েছে। এর মাঝেই মামলাকারী সংগঠনের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে হুঙ্কার দিয়েছেন যে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে এবং তা না মানলে আইনি পরিণতি হিসেবে জেলে যাওয়ার পথেই হাঁটতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
আদালতের এই নজরদারির মাঝেই রাজ্য সরকারের আর্থিক সংকট ও বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। কোষাগারের ওপর প্রবল চাপের দোহাই দিয়ে সাম্প্রতিক শুনানিতে একসঙ্গে শতভাগ ডিএ দেওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি তুলেছে রাজ্য। আদালতের কাছে কিছুটা ছাড় চেয়ে আপাতত পনেরো শতাংশ বকেয়া ডিএ ছাড় দেওয়ার অনুমতিও প্রার্থনা করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত যুক্তির জবাবে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সরকারের বক্তব্য এই মুহূর্তে বিচার্য নয়, একমাত্র দেখার বিষয় হলো সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ কী রয়েছে। তাঁর মতে, ডিএ দেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং তা থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন দেখার বিষয় আগামী ১৮ তারিখের পরবর্তী শুনানিতে আদালত এই সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে কী ধরনের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।