বৃষ্টির মধ্যেই ফের ধস চুঁচুড়ায়! কেএমডিএ-কে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করার হুঁশিয়ারি বিধায়ক সুবীর নাগের
টানা বৃষ্টি এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা পাইপলাইনের কাজের জেরে ফের ধস নামল চুঁচুড়ার পিপুলপাতি থেকে বকুলতলা রোডে। চুঁচুড়া পুরসভার ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় আচমকা ধস নামায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধসের কারণে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে রাস্তার ধারের একাধিক আবাসনের পরিবারগুলি।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিধায়ক সুবীর নাগ। কাজের গাফিলতি দেখে কেএমডিএ (KMDA)-র ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন তিনি। বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত কাজ শেষ না হলে ঠিকাদার সংস্থাকে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত জানুয়ারি মাসেই এই একই রাস্তায় একই কারণে ধস নেমেছিল।
দুর্ভোগের কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা
পিপুলপাতি থেকে বকুলতলা রোডটি হুগলি জেলার অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগস্থল। এই রাস্তার ওপর রয়েছে:
- মহকুমা শাসকের (SDO) বাংলো
- একাধিক নামী স্কুল ও কলেজ
- সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিস
- ঘনবসতিপূর্ণ একাধিক আবাসন
দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তায় কেএমডিএ-র পানীয় জলের পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে। এর জেরে এমনিতেই রাস্তা বেহাল অবস্থায় ছিল, তার ওপর শনিবারের বৃষ্টিতে ধস নামায় পথচলতি মানুষ ও এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
বাসিন্দাদের আতঙ্ক ও ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের মূল অভিযোগ, ধসের ফলে তাঁরা গাড়ি বা বাইক নিয়ে তো দূর, হেঁটেও বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না। এছাড়া রাতে যখন ভারী যন্ত্র দিয়ে পাইপলাইনের কাজ চলে, তখন আশপাশের বাড়িঘর থরথর করে কাঁপে। ফলে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। বাসিন্দাদের দাবি, ঠিকাদার সংস্থাকে বারবার এই বিষয়ে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো পাত্তা দেয়নি।
কে কী বলছেন?
বিধায়ক সুবীর নাগ: “যেখানে বালি দিয়ে গর্ত বোজানোর নিয়ম, সেখানে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই নিম্নমানের কাজের জন্যই বারবার ধস নামছে। ঠিকাদার সংস্থার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য সরকারের বদনাম আমরা সহ্য করব না। পুরসভার প্রশাসক ও কেএমডিএ-কে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।”
ঠিকাদার সংস্থা: কাজের বিলম্ব ও ধসের পেছনে মাটির সমস্যাকে দায়ী করেছে ঠিকাদার সংস্থা। তাঁদের দাবি, “এখানকার মাটির কাঠামোর কারণে মূল নকশায় কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছে, তাই সময় একটু বেশি লাগছে। খুব দ্রুত কাজ শেষ করে রাস্তা স্বাভাবিক করা হবে।”