রাজস্বে বড় ধস ও বেআইনি কারবারের বাড়বাড়ন্ত, বিহারে মদ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুপারিশ গবেষণায়

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিক রিসার্চ (NCAER)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই বড় প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ রত্না সহায়ের নেতৃত্বে করা ওই গবেষণার ভিত্তিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে— বিহার সরকারের উচিত দ্রুত মদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
গবেষণার মূল বিষয় ও তথ্যসমূহ:
- রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা: মদ বিক্রি থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠলে রাজ্যের নিজস্ব কর আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পরিকাঠামো ও রাজ্য উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
- খরচ হ্রাস: বর্তমানে এই কঠিন আইন বজায় রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনকে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়, আইন তুলে নিলে সরকারের সেই খরচ একধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে।
- ইতিবাচক প্রভাব: গবেষণায় স্বীকার করা হয়েছে যে, মদ বন্ধ হওয়ার পর রাজ্যে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা কিছুটা হলেও কমেছে।
- নেতিবাচক প্রভাব: আইন কঠোর হলেও বাস্তবে রুখে দেওয়া যায়নি বেআইনি মদের কারবার। উপরন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুর্নীতি, পুলিশের সমস্যা এবং যুবসমাজের মধ্যে অন্যান্য বেআইনি মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
আইনের ইতিহাস: ২০১৬ সালে নীতীশ কুমারের সরকার ‘দ্য বিহার প্রোহিবিশন অ্যান্ড এক্সাইজ অ্যাক্ট’ কার্যকর করে রাজ্যজুড়ে মদ তৈরি, বিক্রি ও পান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। গুজরাট ও নাগাল্যান্ডে এই ধরনের আইন থাকলেও, গবেষণার দাবি অনুযায়ী বিহারের আইনটি সবচেয়ে কড়া।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য নীতিশ কুমার প্রশংসনীয় কাজ করলেও, রাজস্বের নিরিখে বিহার এখনও অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে পিছিয়ে এবং কেন্দ্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। তাই বিহারকে স্বাবলম্বী করতে এবং কালোবাজারি রুখতে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই এখন অন্যতম কার্যকর পথ হতে পারে।