“স্বরূপবাবু আমার শ্লীলতাহানি করেননি!”— হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে মামলা তুললেন মেকআপ আর্টিস্ট সিমরন

টলিউডে ফের বড়সড় ধামাকা: ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনা শ্লীলতাহানির অভিযোগ আচমকাই প্রত্যাহার করে নিলেন মেকআপ আর্টিস্ট সিমরন পাল। শুধু মামলাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সিমরন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে স্বরূপ বিশ্বাস তাঁর সঙ্গে কোনোপ্রকার শ্লীলতাহানি করেননি।
অভিযোগকারিণীর এই হঠাৎ বয়ান বদলে স্বাভাবিকভাবেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে অনুরাগী ও রাজনৈতিক মহলে।
ভিডিও বার্তায় সিমরনের বিস্ফোরক দাবি:
- ভুল বোঝাবুঝি ও প্ররোচনা: সিমরন জানান, অন্য কয়েকজন মানুষের প্ররোচনা এবং ভুল বোঝানোর শিকার হয়েই তিনি এই পদক্ষেপে বাধ্য হয়েছিলেন। এর জন্য স্বরূপবাবুকে অহেতুক সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
- কখনও দেখাই হয়নি: তিনি দাবি করেন, স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর আজ পর্যন্ত কোনোদিন সামনাসামনি দেখাই হয়নি! ফলে তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা পুরোপুরি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
- হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা: ভিডিওতে সিমরন হাতজোড় করে স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর ওই ভুলের জন্য স্বরূপবাবুকে অকারণে জেল খাটতে হয়েছে এবং সমাজে বড় অপবাদ সহ্য করতে হয়েছে।
ঘটনার পিছনের আসল কারণ কী?
সিমরনের দাবি অনুযায়ী, তাঁর আসল ক্ষোভ বা বিরোধ স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ছিল না। মূলত ফেডারেশনের অন্য দুই সদস্য—শান্তনু দে এবং বাপি মালাকার-এর সঙ্গেই তাঁর ব্যক্তিগত ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। সেই সংঘাতের জেরেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত স্বরূপ বিশ্বাসের নাম জড়িয়ে পড়ে।
প্রেক্ষাপট: চলতি বছরের জুন মাসে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনের অধীনে মামলা করে কলকাতা পুলিশ স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছিল। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে টলিউড ও রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারিণী নিজেই এখন সব অভিযোগ অস্বীকার করায় এই মামলার আইনি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।