‘সব দাবি মানতে হবে!’ ঝাড়খণ্ডে শিক্ষক-পরীক্ষার্থীদের হুঙ্কার, বৈঠকেও মিলল না রফা

ঝাড়খণ্ডে একাধিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন চরম আকার ধারণ করেছে। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে এবার প্রকাশ্যে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার স্পষ্ট জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা শিক্ষার্থীদের পাশে তাঁদের সংগঠন সবরকমভাবে থাকবে। ইতিমধ্যে মুকেশ ও অক্ষয় শিন্ডের নেতৃত্বে CJP-র একটি প্রতিনিধিদল ঝাড়খণ্ডে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঝাড়খণ্ড সরকার গঠিত একটি পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শনিবার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথে দফায় দফায় আলোচনায় বসে। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান মেলেনি। আন্দোলনকারীদের সাফ কথা—সব দাবি না মেটা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।
সরকারি কমিটি প্রথম বৈঠকটি করে ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি ক্যান্ডিডেটস ফোরাম’-এর সাথে, যার নেতৃত্বে ছিলেন JLKM নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। উল্লেখ্য, অনিয়মের প্রতিবাদে দেবেন্দ্র নাথের অনশন শনিবার সপ্তম দিনে পড়ল। প্রায় দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে সরকারের থেকে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তাঁরা।
এরপর সরকারি প্রতিনিধিদল পর্যায়ক্রমে NSUI, আদিবাসী ছাত্র সংঘ (ACS) এবং শাসকদলের ছাত্র সংগঠন ঝাড়খণ্ড ছাত্র মোর্চা (JCM)-র সাথেও বৈঠক করে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
- ১৪তম JPSC পরীক্ষা বাতিল: বিতর্কিত ১৪তম JPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা অবিলম্বে সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
- নিরপেক্ষ ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত: সন্দেহজনক সব JPSC ও JSSC পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে CID বা CBI তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে।
- স্বচ্ছ পরীক্ষার ব্যবস্থা: NTA-র আদলে রাজ্যে ‘ঝাড়খণ্ড টেস্টিং এজেন্সি’ (JTA) গঠন করতে হবে।
- স্থানীয় ভাষার গুরুত্ব: জনজাতি ও স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে যোগ্যতা নির্ণায়ক পত্র হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বৈঠক শেষে সরকারি প্যানেলের সদস্য তথা মন্ত্রী সঞ্জয় প্রসাদ যাদব জানান, “শিক্ষার্থীদের তোলা প্রতিটি দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের কাছে তুলে ধরে দ্রুত সিদ্ধান্তের ব্যবস্থা করব।”
তবে সরকারের এই মৌখিক আশ্বাসে শান্ত হননি আন্দোলনকারীরা। প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থার দাবিতে তাঁরা আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।