১৮০ ডিগ্রি ইউ-টার্ন! ‘চাপে পড়ে মিথ্যে মামলা’, ক্ষমা চেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগকারিণী

কলকাতা: টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ার রাজনীতি ও আইনি লড়াইয়ে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় মোড়! তৃণমূল নেতা তথা টলিউডের টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি ও অস্ত্র আইনের মামলায় ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদলালেন অভিযোগকারিণী তরুণী। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তিনি যে অভিযোগ এনেছিলেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং কিছু মানুষের প্ররোচনা ও চাপে পড়ে তিনি এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, জুন মাসে স্টুডিওপাড়ার সঙ্গে যুক্ত এই মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা পুলিশ স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছিল এবং তাঁকে ৪২ দিন জেল খাটতে হয়। কিন্তু এখন অভিযোগকারিণী স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বরূপ বিশ্বাস কখনও তাঁর শ্লীলতাহানি করেননি। এমনকি তিনি জীবনে কোনদিন স্বরূপের মুখোমুখিও হননি বা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেনও না।
ভিডিও বার্তায় কী বললেন তরুণী?
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিওতে ওই তরুণী হাতজোড় করে বলেন, “কিছু মানুষের কথায় প্ররোচিত হয়ে এবং চাপে পড়ে আমি এই কাজ করেছিলাম। স্বরূপ বিশ্বাস আমার কোনো ক্ষতি করেননি। আমার অজান্তে ও অকারণে ওঁর মতো একজন মানুষকে ৪২ দিন জেল খাটতে হয়েছে, ওঁর এত বড় বদনাম হয়েছে। ছোট বোন মনে করে দাদা যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন।”
তরুণী আরও অভিযোগ তোলেন যে, নিউ আলিপুর থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগপত্রটি তাঁর নিজের হাতে লেখা ছিল না। তাঁকে ভুল বুঝিয়ে ও চাপ দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, মূলত শান্তনু দে এবং বাপি মালাকার নামে দুই ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে গিয়ে গুলি করে খুনের হুমকি দেওয়ায় তিনি নিউ আলিপুর থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে কীভাবে স্বরূপ বিশ্বাসের নাম জড়াল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সুরক্ষা ও আইনি পদক্ষেপের ধোঁয়াশা:
কারা তাঁকে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করতে প্ররোচিত করেছিল? নিরাপত্তার স্বার্থে ও ভয়ের কারণে তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনতে অস্বীকার করেছেন ওই মহিলা। ইতিমধ্যে আইনজীবীর মারফতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে তিনি পেশাগত জীবনে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগকারিণীর এই আকস্মিক বয়ান বদলের পর জলঘোলা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও পুলিশি অলিন্দে। এ বিষয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, “কেউ মিথ্যে অভিযোগ এনে বিভ্রান্তি তৈরি করলে, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট সংস্থান রয়েছে।” তবে পুলিশ কি এবার ওই মহিলার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। অন্যদিকে, পুরো বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।