“দল ভারী করতে চোর-বাটপাড় নয়!” নবাগতদের নিশানা করে চরম হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কের

“দল ভারী করতে চোর-বাটপাড় নয়!” নবাগতদের নিশানা করে চরম হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কের

দল ভারী করার অজুহাতে কোনো ‘চোর-বাটপাড়’কে বিজেপিতে নেওয়া যাবে না—ভোটের পর দলে যোগ দেওয়া নবাগতদের একাংশকে নিশানা করে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল। একই সঙ্গে দলের অন্দরে নির্দেশ অমান্যকারী নেতা-কর্মীদেরও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

দেবদাস বাবু স্পষ্ট জানান, “৪ তারিখের পর যারা গেরুয়া উত্তরীয় ও পতাকা হাতে বিজেপি সেজেছে, দলে তাদের কোনো জায়গা নেই।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, হাবড়াতেও এই ধরনের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

শনিবার বারাসাতে বিজেপি বিধায়কদের এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেছিল দলের বারাসাত সাংগঠনিক জেলা। সেখানে বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় ও জেলা সভাপতি রাজীব পোদ্দার সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। ওই মঞ্চ থেকেই দেবদাস মণ্ডল বলেন, “দল যাকে দায়িত্ব দেবে—সে কানা, খোঁড়া বা অন্ধ যাই হোক না কেন—তাকেই মেনে চলতে হবে।”

কিছু নেতার নিজেদের জনভিত্তি না থাকায় তারা দলকে বড় করতে অসাধু লোকজনকে দলে টানছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে বিধায়ক বলেন, “এই লোকগুলোকে দল থেকে তাড়ান! এরাই দলের বারোটা বাজাচ্ছে এবং ভাঙন ধরাচ্ছে।” তৃণমূলের যেসব কর্মীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, বিজেপি কর্মীদের মারধর কিংবা ক্লাব-মন্দির দখলের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কোনোভাবেই বিজেপিতে জায়গা দেওয়া যাবে না বলে তিনি নির্দেশ দেন।

বাম ও তৃণমূলকে একযোগে নিশানা করে ৩৪ বছরের বাম শাসন ও ১৫ বছরের তৃণমূল রাজত্বের তীব্র সমালোচনা করেন দেবদাস মণ্ডল। বিরোধীদের উদ্দেশ্যে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, “মায়াপুরে গিয়ে সংকীর্তন করে পাপ ধুয়ে আসুন।” এরপরও যাদের মাথায় “দিদির ভূত” চেপে থাকবে, তাদের “জুতোপেটা করা হবে” বলেও চরম হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবারই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে জানান, রাজ্যবাসী কেবল ‘জামা বদল’ নয়, ‘মানুষের মেজাজ ও চরিত্রের পরিবর্তন’ চেয়েছেন। যেখানেই কোনো বিচ্যুতি দেখা যাচ্ছে, দল সেখানে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নিচুতলার তোলাবাজি থামাতে জেলা পর্যবেক্ষকদের বিশেষ দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বিজেপি বিধায়কের এমন কড়া ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *