এক মঞ্চে বাম, আরজি কর ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন! কী বার্তা দিতে চলেছেন নেহা বোরা?

যন্তর মন্তরে জোরালো আন্দোলনের পর এবার কলকাতার বুকে এক অভিনব রাজনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী থাকতে চলেছে রাজ্য। মঙ্গলবার সুকিয়া স্ট্রিটের রামমোহন লাইব্রেরি হলে আয়োজিত হতে চলেছে আইসা-র ‘জেন জি আন্দোলন সংহতি’ কর্মসূচি। এই মঞ্চকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। কারণ, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আইসার সর্বভারতীয় নেত্রী নেহা বোরার, যিনি সম্প্রতি রাঁচিতে ছাত্রবিক্ষোভের মঞ্চে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। তবে এই সভার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর বক্তা তালিকা, যেখানে বাম ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ মুখগুলির পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন আরজি কর আন্দোলনের পরিচিত মুখ ড. দেবাশিস হালদার এবং যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের নেতা মেহবুব মণ্ডল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে বামেদের এই যৌথ উদ্যোগ আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ।
মৌলালি যুবকেন্দ্রে অনুমতি না মেলায় শেষ মুহূর্তে এই কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করে রামমোহন লাইব্রেরি হল করা হয়েছে। তবে কলকাতার মাটিতে পা রাখার আগে সোমবার এক ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে তিনি কলকাতার কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন এবং সকলের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবেন। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনেও অংশ নেবেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে সিপিএম এবং লিবারেশনের মধ্যকার নির্বাচনী বোঝাপড়ার প্রভাব যে এবার ছাত্র রাজনীতির ময়পাতাটেও পড়তে চলেছে, আজকের এই কর্মসূচি তা অনেকটাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। একদিকে রাঁচির ঘটনার পর নেহার নিরাপত্তা ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেমন বাম শিবিরের অন্দরে মৃদু উদ্বেগ রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে আরজি কর ও চাকরিপ্রার্থীদের মতো স্পর্শকাতর সামাজিক আন্দোলনগুলির নেতৃত্বকে একই ছাতার তলায় এনে বিরোধী শিবির কী বার্তা দিতে চায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।