ফরাক্কা ব্যারেজের কঙ্কালসার রাস্তায় নিত্য মরণফাঁদ! ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা, আতঙ্কে থমকে শিশুদের পড়াশোনা

ফরাক্কা: দীর্ঘদিনের অবহেলা আর মেরামতির অভাবে ফরাক্কা ব্যারেজের নিশিন্দ্রা কাটান সংলগ্ন ইন্সপেকশন রোডটি এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের ৮০ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রাজ্যের ১২ নম্বর জাতীয় সড়ককে সংযোগকারী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বর্তমানে বিশালাকার গর্ত আর জমা জলে ভরা। তার ওপর এনটিপিসি-র ছাইবোঝাই লরি এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আসা ওভারলোডেড পাথরবোঝাই ডাম্পারের অনবরত চলাচলে রাস্তাটির অবস্থা অতিশয় করুণ। নিত্যদিনের দুর্ঘটনা, টোটো উল্টে যাওয়া এবং মারাত্মক যানজটের কারণে চরম ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা। ফিডার ক্যানেলের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত নিশিন্দ্রা হাই স্কুলে প্রতিদিন প্রায় দু’হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করে। সম্প্রতি আদুয়া গ্রামের এক ছাত্রী সাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার বড় গর্তে পড়ে গুরুতর আহত হয়। একই দিনে ঝাড়খণ্ড থেকে আসা ৫ জন মহিলা যাত্রীবোঝাই একটি টোটো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গর্তে উল্টে যায়, যাতে এক মহিলার পা ফেটে যায় ও তিনি মারাত্মক আঘাত পান। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে বহু অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিচ্ছেন। বর্ষার দিনে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও আসাম্ভব হয়ে পড়েছে।
প্রশাসন ও রাজনৈতিক স্তরে এ নিয়ে চলছে জোর তরজা। ২০২৪ সালের শেষের দিকে জেলা পরিষদ ও ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের অধীনে রাস্তার কাজ শুরু হলেও তা মাঝপথেই আটকে যায়। পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিনিধি দাসু ঘোষের দাবি, ঠিকাদার সংস্থার গাফিলতিতেই কাজ আসাম্পূর্ণ রয়ে গেছে। অন্যদিকে, বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রৌনক সাহার অভিযোগ— কাজের নামে স্রেফ টাকা লুট করা হয়েছে। তবে দায় এড়াতে দেখা গেছে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষকে। জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশ পান্ডে জানান, “রাস্তাটি ব্যারেজের নিজস্ব কাজে লাগে না, বিধায়কের অনুরোধে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবুও অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” যদিও ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারি বিষয়টি সংবেদনশীল মেনে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।