আসন বদল কেন, নিষ্ক্রিয়তাই বা কেন? ওম বিড়লার মুখোমুখি হয়ে সুপ্রিম কোর্টের হুঁশিয়ারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

নয়াদিল্লি: সংসদ ভবনের রাজনীতিতে হঠাৎই পারদ চড়ল। দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রয়োগে বিলম্ব এবং লোকসভায় অনুমতি ছাড়া আসন পরিবর্তন—এই দুই ইস্যু নিয়ে সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মুখোমুখি হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দল পরিবর্তনকারী সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে এবং লোকসভার আসন পরিবর্তনের যৌক্তিকতা জানতে চেয়ে স্পিকারের কাছে নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অভিষেকের জোড়া অভিযোগ ও মূল ক্ষোভ
স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মূলত দুটি বড় প্রশ্ন তোলেন:
- দলত্যাগ বিরোধী আইনে নিষ্ক্রিয়তা: তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য গত জুন মাসে পৃথক ২০টি চিঠি দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। জুলাই মাসেও স্পিকারের সঙ্গে এ নিয়ে সাক্ষাৎ করেন অভিষেক। তবে দু’মাস পার হয়ে গেলেও কেন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
- অনুমতি ছাড়া আসন বদল: তৃণমূলের তরফ থেকে কোনো রকম আবেদন না থাকা সত্ত্বেও ঠিক কোন যুক্তিতে সাংসদদের বসার আসন পরিবর্তন করা হলো, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান তিনি। বিশেষ করে, তাকে প্রথম সারি থেকে সরিয়ে দ্বিতীয় সারিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ করেন অভিষেক।
স্পিকারের আশ্বাস ও সুপ্রিম কোর্টের তোপ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার ওম বিড়লা আশ্বাস দিয়ে জানান যে, আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনের আগেই এই সমস্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাধ্যতামূলক। তিনি সাফ জানান—স্পিকার দ্রুত পদক্ষেপ না করলে তৃণমূল পুনর্নবীকরণ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হবে। অভিষেকের স্পষ্ট দাবি: “হয় এনসিপিআই-কে পূর্ণ দল হিসেবে মান্যতা দিন, না হয় দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিন।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা যুক্তি
এই ইস্যু সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। দলত্যাগী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, বসার আসন বা দলত্যাগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে স্পিকারের এক্তিয়ারভুক্ত। আইনি ও নথিপত্র যাচাইয়ের কারণেই হয়তো কিছুটা সময় লাগছে। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও জানান, লোকসভার অভ্যন্তরীণ সমস্ত সিদ্ধান্ত স্পিকারের বিচক্ষণতার ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।