কোলে দু’বছরের সন্তান, ল্যাপটপ জমা দিতে গিয়ে চরম অপমান! ব্ল্যাকরকের অধীনস্থ সংস্থায় অমানবিক ঘটনা

কোলে দু’বছরের সন্তান, ল্যাপটপ জমা দিতে গিয়ে চরম অপমান! ব্ল্যাকরকের অধীনস্থ সংস্থায় অমানবিক ঘটনা

চাকরি হারানোর যন্ত্রণা এমনিতেই মর্মান্তিক, তার ওপর যুক্ত হলো চরম অপমান ও অমানবিক আচরণ। বিশ্বখ্যাত ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম ব্ল্যাকরকের (BlackRock) অধীনস্থ ডেটা ও অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘প্রেকইন’ (Preqin)-এর এক প্রাক্তনী নিজের দু’বছরের ছোট্ট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অফিসের ল্যাপটপ জমা দিতে গিয়ে এক হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি প্রকাশিত হতেই কর্পোরেট জগতের চরম অনুভূতিহীন রূপ নিয়ে তীব্র শোরগোল তৈরি হয়েছে।

১. বাধ্য হয়েই সন্তানকে নিয়ে অফিসে গমন

সম্প্রতি আকস্মিকভাবে চাকরিচ্যুত করার পর ওই প্রাক্তন কর্মীকে অফিসের শেষ আনুষ্ঠানিকতা মেটাতে ও ল্যাপটপ জমা দিতে সশরীরে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু সেদিন তাঁর স্ত্রীরও জরুরি দাপ্তরিক কাজ থাকায় বাড়িতে সন্তানকে দেখাশোনার মতো কেউ ছিলেন না। বাধ্য হয়েই দু’বছরের শিশুটিকে কোলে নিয়ে তিনি অফিসে পৌঁছান। তাঁর ধারণা ছিল, মাত্র ৫ মিনিটের ব্যাপার—কাউন্টারে ল্যাপটপটি জমা দিয়েই তিনি বেরিয়ে আসতে পারবেন।

২. প্রোটোকলের অজুহাতে সন্তানের সামনেই বন্ধ দরজা

কিন্তু অফিসে পৌঁছানোর পর সেখানকার নিরাপত্তাকর্মী ও কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেন, নিয়ম অনুযায়ী অফিস চত্বরে কোনো শিশুকে প্রবেশ করতে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওই ব্যক্তি বারবার নিজের অসহায় অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, তিনি আর এই প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন, কেবল ল্যাপটপটি জমা দিতে এসেছেন। তবুও ম্যানেজমেন্টের মন গলেনি; অবোধ শিশুটির সামনেই চরম নির্দয়ভাবে অফিসের মূল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

৩. সহকর্মীর সহায়তায় ল্যাপটপ জমা ও নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ

উপায়ান্তর না দেখে ওই ব্যক্তি বাইরে দাঁড়িয়েই এক প্রাক্তন সহকর্মীকে ফোন করে ডাকেন। সেই সহকর্মীর দায়িত্বে শিশুটিকে কিছুক্ষণের জন্য রেখে তিনি দ্রুত ভেতরে গিয়ে ল্যাপটপ জমা দেন। প্রশাসনিক জটিলতায় মাত্র কয়েক মিনিটের কাজটি মেটাতে প্রায় ১৫ মিনিট সময় কেটে যায়, যা ভুক্তভোগী কর্মীকে মানসিকভাবে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।

যদিও ওই ব্যক্তি জানান যে সংস্থাটি হয়তো তাদের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম বা প্রোটোকল মেনে চলেছে, তবুও এই চরম অসংবেদনশীল আচরণে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিট-এ (Reddit) পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই প্রেকইন (Preqin)-এর এই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে তোপের মুখে পড়েছে সংস্থাটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *