১৫ আগস্টের পরদিনও নতুন করে স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস! বিহারের এই শহরে কেন পালন হয় ১৬ আগস্ট?

১৫ আগস্টের পরদিনও নতুন করে স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস! বিহারের এই শহরে কেন পালন হয় ১৬ আগস্ট?

প্রতি বছর ১৫ আগস্ট সমগ্র দেশ যখন পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে মেতে ওঠে, বিহারের বক্সার জেলার ঐতিহাসিক শহর ডুমরাওঁ-তে ঠিক তার পরদিন অর্থাৎ ১৬ আগস্ট স্বাধীনতার মতো একই উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। মূলত ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর সময় ডুমরাওঁ থানার ওপর ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো চার বীর শহিদ—কপিল মুনি, গোপাল কাহার, রামদাস সোনার ও রামদাস লোহারের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। ১৯৪৩ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা পরম শ্রদ্ধায় ১৬ আগস্ট দিনটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবসের মর্যাদা দিয়ে ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছেন।

মহাত্মা গান্ধীর “করো অথবা মরো” ডাকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রায় ৫,০০০ মানুষের একটি মিছিল ডুমরাওঁ থানার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে কপিল মুনিসহ চারজন শহিদ হন। অদম্য সাহসের পরিচয় দিয়ে জনতা শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের পরাস্ত করে সেখানে জাতীয় পতাকা উড়ায়। পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের স্মৃতিতে ওই থানাকে স্মৃতিসৌধে রূপান্তর করা হয়। ২০১৫ সালে বিহার সরকার ১৬ আগস্টের এই বার্ষিক স্মরনুষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার প্রাঙ্গণে চার শহিদের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করেন। ফলে ১৫ আগস্ট সমগ্র ভারত স্বাধীন হলেও, স্বাধীনতার এই চার মহান বীরদের প্রতি পরম শ্রদ্ধা জানাতে ডুমরাওঁবাসী ১৬ আগস্ট আবারও একত্রিত হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *