একটুর জন্য বেঁচে যান সঙ্গী, ১৯ বছর বয়সে ফাঁসি! জেলাশাসক হত্যার সেই রক্তঝরা ‘লালভবন’ আজ কোন করুণ পরিণতির মুখে?

১৯৩২ সালের ৩০ এপ্রিল মেদিনীপুরের অত্যাচারী ব্রিটিশ জেলাশাসক রবার্ট ডগলাসকে তাঁর নিজ কার্যালয়েই গুলি করে হত্যা করেন বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের দুই দুঃসাহসী বিপ্লবী প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্য ও প্রভাংশুশেখর পাল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী অবিভক্ত মেদিনীপুরের শতবর্ষ প্রাচীন ‘লালভবন’। মাত্র ১৯ বছর বয়সে শহিদ প্রদ্যোতের ফাঁসি এবং অগ্নিযুগের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস বিজড়িত এই ভবনটি আজও ব্রিটিশ আমলের ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড (বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বাধীনতার পূর্বে দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল ও নাড়াজোল রাজপরিবারের দেবেন্দ্রলাল খানের মতো কিংবদন্তি সংগ্রামীরাও এই ভবনের চেয়ারম্যান পদে আসীন ছিলেন।
বর্তমানে মেদিনীপুরের অনন্য ঐতিহ্য ও ইতিহাসের ধারক এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ‘হেরিটেজ’ স্বীকৃতির অপেক্ষায় দিন গুনছে। ভবনের হেরিটেজ মর্যাদার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সরব স্থানীয় শিক্ষক, গবেষক এবং ‘হেরিটেজ জার্নি’র মতো সামাজিক সংগঠনগুলো। এই লক্ষ্যে মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত এবং প্রবীণ কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণার মাধ্যমে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক আবেদন জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ভবনটিকে দ্রুত হেরিটেজ ঘোষণা করার জন্য প্রয়োজনীয় সব নথি ইতিমধ্যেই ‘পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন’-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। মেদিনীপুরবাসীর এখন একটাই আশা—বিপ্লবী রক্তের স্মৃতিমাখা এই ভবনটি যেন খুব শীঘ্রই তার প্রাপ্য মর্যাদায় ভূষিত হয়।