দামোদরের বুকে আজও চলছে মরণপণ জীবনযুদ্ধ, সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় দিশেহারা মৎস্যজীবীরা!

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের কুবের মাঝির জীবনসংগ্রাম যেন আজও জীবন্ত দুর্গাপুরের দামোদরের বেলতলার ঘাটে। ভোর না হতেই জাল কাঁধে মৎস্যজীবীদের শুরু হয় জীবনের লড়াই। কিন্তু নদীর নাম বদলালেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল ঘটেনি। মাছের আকাল, নদীতে পলি জমে নাব্যতা হ্রাস এবং অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে জীবিকা এখন চরম সংকটের মুখে। নৌকা মেরামত ও জাল কেনার খরচ জোগাতে নাভিশ্বাস উঠছে তাঁদের। বর্ষাকালে নদীভাঙনের আতঙ্ক আর কর্মসংস্থানহীনতার জেরে ধার-দেনাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা।
মৎস্যজীবী কার্ড থাকা সত্ত্বেও সরকারি কোনো আর্থিক সহায়তা বা আধুনিক সরঞ্জাম না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিও উপেক্ষিত থেকেছে বারবার। স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জীব বড়ালের মতে, এখনও মৎস্যজীবীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে এবং আগামী দিনে সরকারি প্রকল্পের আওতায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের এই যাঁতাকল থেকে কবে মুক্তি মিলবে, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানাই রয়ে গেছে।