“রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছিল!”— আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুইসাইড নোটে একরাশ হাহাকার ও আক্ষেপ

রামপুরহাট: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল রামপুরহাটে। রবিবার সকালে হাটতলাপাড়ায় নিজের বাড়ির সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে এক পাতার একটি ‘সুইসাইড নোট’, যেখানে রাজনীতিতে আসা নিয়ে একরাশ ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ নেতা।
উদ্ধার হওয়া চিঠিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ছাত্রাবস্থা থেকে রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও তিনি কখনও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে নিজেকে জড়াননি এবং কারও কাছ থেকে এক পয়সাও নেননি বলে দাবি করেন। চিঠিতে তিনি আক্ষেপ করে লেখেন, “রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে।” একই সাথে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যতে কখনও রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শ দেন।
টিআরডিএ (TRDA)-র কাজের প্রসঙ্গ টেনে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, টেন্ডার কমিটি বা অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল না। তাঁকে অপদস্থ ও হেয় করার জন্য নানা চক্রান্ত করা হয়েছিল বলে নাম না করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়াও, দলের সমস্ত অন্যায় মেনে নিতে না পারলেও তিনি প্রতিবাদ করতে পারেননি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
বীরভূমের রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় স্কুলশিক্ষা ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন। পেশায় শিক্ষক আশিসবাবু মৃত্যুর আগে তাঁর ছাত্রছাত্রীদের প্রতি ভালোবাসা ও স্মৃতির কথাও চিঠিতে উল্লেখ করে যান। সম্প্রতি ২০২৬-এর নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি রাজনীতিতে কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং সুইসাইড নোটটির সত্যতা যাচাই করছে।