‘দিমাগি নকশাল’ বিতর্ক: মোদীর মন্তব্যের ব্যাখ্যা রিজিজুর, পাল্টা তোপ চিদম্বরমের

৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ভাষণকে কেন্দ্র করে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। ভাষণে মাওবাদী দমন ও দমননীতির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশালদের’ (মানসিক বা চিন্তাগত নকশাল) চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, সরকারের সমালোচকদের নিশানা করতেই প্রধানমন্ত্রী এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন। এর জবাবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, তিনি ‘দিমাগি নকশাল হতে পেরে গর্বিত’।
বিতর্ক বাড়তে থাকায় রবিবারে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি স্পষ্ট জানান যে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে এই মন্তব্য করেননি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘দিমাগি নকশাল’ কাদের বলা হচ্ছে, তার ৩টি প্রধান শ্রেণী বিভাগ তুলে ধরেন রিজিজু:
১. প্রথমত: যাঁরা মাওবাদী আদর্শকে সমর্থন করেন এবং ভারতীয় সংবিধানের ওপর আস্থা রাখেন না।
২. দ্বিতীয়ত: যাঁরা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ান এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতুলের বিরোধিতা করেন।
৩. তৃতীয়ত: যাঁরা ‘চিকেনস নেক’ কেটে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার মতো রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলেন।
রিজিজুর মতে, এই ধরণের চিন্তাভাবনা পোষণকারী ব্যক্তিরাই মূলত ‘দিমাগি নকশাল’।
মোদীর ভাষণে ঠিক কী ছিল?
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন যে, জঙ্গলে অস্ত্র হাতে লড়াই করা মাওবাদীদের অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হলেও, সমাজের গভীরে এখনও কিছু ‘দিমাগি নকশাল’ সক্রিয় রয়েছে। তাঁরা সুযোগ বুঝে হিংসা ছড়ানোর এবং সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সরকারি কমিটি ও প্রতিষ্ঠানে এই মানসিকতার মানুষজন প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল।
বিরোধীদের বক্তব্য:
বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, পূর্বে ব্যবহৃত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’, ‘আন্দোলনজীবী’, ‘আরবান নকশাল’ কিংবা ‘খলিস্তানি’র মতো শব্দের মতোই এটিও সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করার একটি নতুন কৌশল। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রশ্নফাঁসসহ নানা ইস্যুতে চাপে থাকা সরকার নজর ঘোরাতে এই ধরনের তকমা দিচ্ছে বলে দাবি বিরোধীদের। তবে কিরেন রিজিজুর সাম্প্রতিক ব্যাখ্যায় সরকার পক্ষ রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছে।