ছাত্র আন্দোলনের জয়ে বাতিল JSSC-CGL, চাকরি হারানোর আতঙ্কে রাজপথে কর্মীরা!

রাঁচি: টানা ২৪ দিনের ছাত্র আন্দোলনের মুখে নতিস্বীকার করে JSSC-CGL পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তেই তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। পরীক্ষা বাতিলের দরুন চাকরি হারানোর আতঙ্কে এবার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ইতিপূর্বে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ২ হাজার সরকারি কর্মী।
সোমবার রাঁচির ‘প্রজেক্ট ভবন’-এর সামনে জমায়েত হয়ে ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা তাঁদের চাকরি বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা নিয়মানুযায়ী পরীক্ষায় পাশ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। ফলে নতুন করে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধুমাত্র কোনো মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে কর্মরত কর্মীদের চাকরি কেড়ে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারী চন্দা কুমারীর অভিযোগ, সরকার গত ২৪ দিন ধরে কেবল আন্দোলনকারী ছাত্রদের দাবি শুনেছে, কিন্তু যাঁরা ইতিমধ্যে চাকরি করছেন তাঁদের পক্ষ জানার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি। আন্দোলনকারীদের সাফ কথা—যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তার দায় নির্দিষ্ট দোষীদের। নির্দোষ কর্মীদের কেন শাস্তি ভোগ করতে হবে? প্রয়োজনে নিজেদের অধিকার বাঁচাতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক: ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের এই পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্রাঞ্চ অফিসার, জুনিয়র সেক্রেটারিয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ব্লক সাপ্লাই অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে কর্মী নিয়োগ করা হয়। গত ২৯ জুলাই রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নফাঁসের সিবিআই তদন্ত এবং স্বচ্ছতার দাবিতে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করেন।
টানা আন্দোলনে অনশনের মতো কড়া পদক্ষেপের পর অবশেষে সোরেন সরকার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। সরকারের এই এক সিদ্ধান্তের জেরে একদিকে যেমন আন্দোলনরত ছাত্ররা স্বস্তি পেয়েছেন, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে কয়েক হাজার কর্মরত সরকারি কর্মচারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা।