‘স্কুল সামলে জনগণনা কখন?’: শিক্ষকদের নিয়ে রাজ্য ও সেন্সাস কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট
স্কুলের পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষকদের দিয়ে জনগণনার (Census) কাজ করানো নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। স্কুলের নির্দিষ্ট সময়ের পর শিক্ষকরা কখন সেন্সাসের দায়িত্ব সামলাবেন—এই প্রশ্ন তুলে এবং জনগণনার সময়কে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন ৩১ জন প্রাথমিক শিক্ষক ও শিক্ষিকা। মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি হলেও কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। বুধবার ফের মামলাটির শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
শুনানিপর্বে রাজ্য এবং সেন্সাস কর্তৃপক্ষের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। রাজ্য আদালতের কাছে জানায়, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত কাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চেষ্টা চলছে।
এই প্রসঙ্গে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কীভাবে সম্ভব হবে এই কাজ? কারণ ইতিমধ্যেই স্কুলের পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষণের সময়সূচি ঘোষণা হয়ে গেছে। তিনি মন্তব্য করেন, সময় চলে যাওয়ার পর যদি কাজ না শেষ হয় এবং শিক্ষকদের শোকজ় করা হয়, তবে তার দায় কে নেবে? রাজ্য ও সেন্সাস কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো পারস্পরিক সমন্বয় নেই বলে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।
বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, যদি শিক্ষকদের কাজ সামলাতে এতই সমস্যা তৈরি হয়, তবে পঞ্চায়েত বা পুরসভার অন্যান্য কর্মীদের এই কাজে কেন নিয়োগ করা হচ্ছে না? সেন্সাসের জন্য কতজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বা কে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেবে—তার সঠিক হিসাব কর্তৃপক্ষের কাছে না থাকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
রাজ্য সময় চাওয়ায় হাইকোর্ট মামলাটির শুনানি স্থগিত রেখে বুধবার পুনরায় বিষয়টি পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।