ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট: ৬৫% মেটানোর রাজ্যের দাবিতে পাল্টা সুর কর্মীদের, বুধবার ফের শুনানি

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত মহার্ঘভাতা (DA) মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের দ্বৈত বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। রাজ্যের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, বকেয়া ডিএ-র মোট পরিমাণের ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যে কর্মচারীদের মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি অংশ মেটানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী, এই বাবদ ইতিমধ্যে ৭,৭০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বণ্টন করা হয়েছে।
তবে আদালতের এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের দাবি সত্ত্বেও বাস্তবে অনেক কর্মীই এখনও বকেয়া টাকা হাতে পাননি। কর্মচারীদের পক্ষে আইনজীবী করুণা নন্দী ও ফিরদৌস শামিম জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত বঞ্চিত কর্মচারীর কাছে এখনও এই সুবিধা পৌঁছায়নি।
উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যেসব কর্মী এখনও বকেয়া পাননি বলে অভিযোগ করছেন, তাঁদের প্রতিনিধিদের নাম আদালতে জমা দিতে হবে। এরপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, সুপ্রিম কোর্ট তার মূল রায়ে বকেয়া ডিএ-র ২৫% অবিলম্বে এবং বাকি ৭৫% ধাপে ধাপে মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে রাজ্যের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে। এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য আদালত গঠিত মনিটরিং কমিটি সম্প্রতি একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। কমিটির নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে, তাঁদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ের প্রথম কিস্তির ডিএ আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার কথা। রাজ্য জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৬৪,৭৫৯ জন কর্মীর ই-সার্ভিস বুক আপলোড সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।