ইমরান খানের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি, জেল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ পাক সুপ্রিম কোর্টের

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষ আদালত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, জেলবন্দি ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
বিচারপতি শাহিদ ওয়াহিদের নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ ইমরানের আবেদনের ভিত্তিতে এই রায় দেয়। বেঞ্চে অন্য দুই বিচারপতি ছিলেন নাঈম আখতার আফগান এবং ইশতিয়াক ইব্রাহিম। চিকিৎসা তদারকির জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও তাঁর বোন উসমা খান অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি, সপ্তাহে অন্তত একদিন ইমরানের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসার বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং মেডিকেল রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য ইমরানের পরিবার ও আইনজীবীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদিয়ালা জেলের সুপারিনটেনডেন্ট আদালতে ইমরানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর এই নির্দেশ আসে। ২০২৩ সালের অগাস্ট মাস থেকে তিনি এই জেলেই বন্দি রয়েছেন। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ইমরানের উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক উদ্বেগ এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক কমে প্রতি মিনিটে ৫৪ বিটে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন একাকীত্বে রাখার ফলেই তাঁর শরীরে এই বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ইমরানের পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি—গত সাত মাস ধরে তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাঁর ছেলে সুলেমান ও কাসিম খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাবার কোনো খবরই তাঁরা পাচ্ছিলেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে পিটিআই কর্মী-সমর্থকরা ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক দমনপীড়নের শিকার ইমরান এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তাঁর দলকে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে পিটিআই নেতৃত্ব অভিযোগ তুলে আসছে।