চা-বাগানের জমি বিক্রি করে তৃণমূলের তহবিল পূরণ! সিবিআই সমতুল্য তদন্তের দাবিতে সরব পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ

বিশেষ প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের জমি বেআইনিভাবে বিক্রি করে সেই টাকা দলীয় তহবিলে তোলার গুরুতর অভিযোগ আনলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে শিলিগুড়ির এই বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী দাবি করেন, বেআইনি জমি বিক্রির এই অর্থ বিগত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বতন জমানায় চা-বাগানের জমি যেভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে, সেটিকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রের দুর্নীতি তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কে জয়রামনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বিরোধী তদন্ত কমিশন’ গঠন করা হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী জানান, চা-বাগানের জমি হস্তান্তর, লিজ প্রদান ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের যাবতীয় বিষয় এই কমিশনের আওতায় এনে খতিয়ে দেখার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখবেন। পাশাপাশি তদন্ত কমিশনের দুই সদস্যের কাছে এ সংক্রান্ত বিশদ নোট পাঠাবেন বলেও জানান শঙ্কর ঘোষ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্নীতির আশঙ্কাতেই পূর্বতন সরকারের সময়ে চা-বাগানের অব্যবহৃত ৩০ শতাংশ জমি পর্যটন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমোদনের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তারা। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার চা-বাগানের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এলাকা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
চা-বাগানে টি-ট্যুরিজম ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ:
দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের চা-বাগানকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের (Tea Tourism) বিকাশে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা জানান পর্যটনমন্ত্রী। তিনি জানান:
- চা-বাগানের ঐতিহাসিক পুরনো বাংলো এবং নতুন হোম-স্টে তৈরির মাধ্যমে পর্যটকদের থাকার সুব্যবস্থা করা হবে।
- বেশ কিছু চা-বাগানের মালিক ও সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
- চা-বাগানের মূল চরিত্র ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে চা-শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হবে।
- স্থানীয় বাসিন্দা ও চা-শ্রমিকদের সরাসরি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে স্থানীয় অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।
মন্ত্রীর কথায়, “চা-বাগানই যদি না থাকে, তবে চা-বাগান দেখতে পর্যটকরা আসবেন কীভাবে? তাই ঐতিহ্য বজায় রেখে চা-বাগানকে শুধুমাত্র চা উৎপাদনের কেন্দ্র না রেখে এক বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”