তারাপীঠে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জের: বন্ধ হচ্ছে ১৫টি হোটেল, পুকুরে নামল ডুবুরি

বীরভূমের তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর প্রশাসনিক তৎপরতা চরম রূপ নিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক ও তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রামপুরহাট মহকুমা প্রশাসন তারাপীঠের চণ্ডীপুর এলাকার ১৫টি হোটেল ও লজ অবিলম্বে বন্ধের নোটিস জারি করেছে। রামপুরহাটের মহকুমা শাসক (SDO) জানান, ফায়ার লাইসেন্স না থাকা এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অনিয়মের কারণে পূর্বে নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও হোটেল কর্তৃপক্ষ জবাব দেয়নি, যার ফলে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বন্ধের নোটিস পাওয়া ১৫টি হোটেল ও লজ: ১. গীতশ্রী গেস্ট হাউস
২. বীরভূম লজ
৩. শৈলেন ভবন
৪. আদর্শ হোটেল
৫. হরে কৃষ্ণ ভবন
৬. গিরিধারী ভবন
৭. নকুল চন্দ্র লজ
৮. ভোলানাথ ভবন
৯. হোটেল দেব
১০. আনন্দ ভবন
১১. দত্ত ভবন
১২. তপতী লজ
১৩. সন্দীপ লজ
১৪. কেশরী লজ
১৫. স্বস্তিক নিবাস হোটেল অ্যান্ড লজ
কৌশিকী অমাবস্যার আগে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ৯ সদস্যের একটি বিশেষ ‘স্পেশাল ফায়ার অডিট টিম’ গঠন করা হয়েছে। দমকল, পূর্ত দফতর, বিদ্যুৎ নিগম ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে এলাকা পর্যবেক্ষণ করছেন। সোমবার দমকল প্রতিমন্ত্রী hotel মালিক সমিতির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে কঠোর সুরক্ষাবিধি পালনের কড়া বার্তা দেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার সময় হোটেলে ৪৩ জন অতিথি ছিলেন, যার মধ্যে ২২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখনও কয়েকজন নিখোঁজ। ধোঁয়া থেকে বাঁচতে কেউ হোটেল সংলগ্ন পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন— এই আশঙ্কায় মঙ্গলবার সকাল থেকে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।