ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, ৪০৫টি সামরিক পণ্যের আমদানিতে বড় নিষেধাজ্ঞা মোদী সরকারের

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে আরও এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারত সরকার। দেশের সার্বিক সামরিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমাতে ৪০৫টি সামরিক যন্ত্রাংশ ও পণ্যের আমদানিতে পর্যায়ক্রমে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর কর্তৃক প্রকাশিত ‘ষষ্ঠ পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট’-এর অধীনে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, যুদ্ধজাহাজ, সাঁজোয়া গাড়ি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। কেন্দ্রের অনুমান, এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশীয় প্রতিরক্ষা ও উৎপাদন শিল্পে প্রায় ৩,০৭০ কোটি টাকার এক বিশাল নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।
এই রূপরেখা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত সময়সীমায় এই ৪০৫টি পণ্যের সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে। যার মধ্যে ৩৮৯টি পণ্য প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং ১৬টি পণ্য ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এতদিন আমদানি করত। দেশীয় প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগের পরই কেবলমাত্র ভারতীয় প্রস্তুতকারকদের থেকেই এসব সামরিক সামগ্রী কেনা নিশ্চিত করা হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী মোট অস্ত্র আমদানির ৮.২ শতাংশ এককভাবে ভারতের দখলে থাকায় ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৩ লক্ষ কোটি টাকা এবং রফতানি ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই কেন্দ্রের এই সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত।