কালো বিড়াল পথ কাটলে অমঙ্গল হয়! এই কুসংস্কারের পেছনে কি সত্যিই কোনো যুক্তি আছে?

রাস্তায় গাড়ি বা স্কুটার চালানোর সময় কালো বিড়াল পথ কাটলে অনেকেই থমকে দাঁড়ান। ভারতে বহু মানুষের কাছেই এটি এক গভীর অন্ধবিশ্বাস। তবে এই কুসংস্কারের উৎস কিন্তু ভারত নয়, বরং মধ্যযুগীয় ইউরোপের লোককথা থেকে এর উদ্ভব। মূলত, ডাইনি বা তান্ত্রিকদের বিড়ালের রূপ ধরে ঘোরার কাল্পনিক গল্প থেকেই এই ভয়ের জন্ম। তবে এর পেছনে রয়েছে এক ব্যবহারিক কারণও। অতীতে ঘোড়ার গাড়িতে যাতায়াতের সময় অন্ধকারে বিড়ালের জ্বলজ্বলে চোখ দেখে ঘোড়া চমকে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাত। সেই দুর্ঘটনা এড়ানোর সতর্কতা কালক্রমে অশুভ সংকেতের কুসংস্কারে রূপ নিয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য সংস্কৃতিতে কিন্তু কালো বিড়ালকে অশুভ ভাবা হয় না। জাজল সংস্কৃতিতে এটি সৌভাগ্য এবং স্কটল্যান্ডে ধন-সম্পদের প্রতীক। এমনকি প্রাচীন মিশরেও বিড়াল ছিল দেবী ‘বাস্তেত’-এর রূপ। বিজ্ঞান এই কুসংস্কারকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দেয়। এটি মূলত মানুষের ‘কনফার্মেশন বায়াস’ বা মনস্তাত্ত্বিক ভ্রান্তি। বিড়াল পথ কাটলে খারাপ কিছু ঘটলেই আমরা তাকে এক সুতোয় বাঁধি, যা আসলে নিছক কাকতালীয়। সবশেষে, শুভ বা অশুভ ভাগ্য বিড়ালের পায়ে নয়, নির্ভর করে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।