আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে ইমরান খান, কড়া নিরাপত্তায় চলছে চিকিৎসা

আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে ইমরান খান, কড়া নিরাপত্তায় চলছে চিকিৎসা

আদালতের নির্দেশ মেনে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। জেনেশুনে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং পরিস্থিতি তদারকি করতে উপস্থিত হন ইসলামাবাদের ইন্সপেক্টর জেনারেলসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কারাগারে ইমরানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলে তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল। পরিবারের উদ্বেগ ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর কর্মী-সমর্থকদের আবেদনের ভিত্তিতেই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এই চিকিৎসার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস পর বুধবার ইমরানের বোন নোরিন নিয়াজি এবং স্ত্রী বুশরা বিবিকে তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবারই ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও সরকারপক্ষ এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায়, কিন্তু বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পরেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পিটিআই সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিফা হাসপাতালে ইমরানের চিকিৎসা চলবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে একবার তিনি পরিবারের সাথে দেখা করতে পারবেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে থাকবেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ফয়জল সুলতান এবং বোন উজ়মা খান। তবে ইমরানের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সি প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান। একাধিক মামলার সম্মুখীন হওয়া ইমরানের দল দাবি করে আসছে যে রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে বন্দি রাখা হয়েছে। সম্প্রতি কারাগারে থাকাকালীন তিনি তাঁর দৃষ্টিশক্তি অনেকাংশে হারিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *