RTO-র ভুয়ো মেসেজে কাঁপছে দেশের সাইবার দুনিয়া: WhatsApp-এর এক ক্লিকেই ব্যাঙ্ক খালি, উধাও লক্ষ লক্ষ টাকা!

ট্রাফিক জরিমানা বা RTO-র বকেয়া মেটানোর নাম করে দেশে আবার শুরু হয়েছে এক বিপজ্জনক সাইবার প্রতারণা। WhatsApp-এ ট্রাফিক চালানের ভুয়ো মেসেজ পাঠিয়ে ফাঁদ পাতছে জালিয়াতরা। সেই মেসেজে থাকা লিঙ্কে ক্লিক বা ফাইল ডাউনলোড করলেই মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা। তামিলনাড়ুর তিরুচি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই সাইবার অপরাধের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র এই ধরনের প্রতারণাতেই মানুষের প্রায় ১.২ কোটি থেকে ১.৬ কোটি টাকা খোয়া গিয়েছে।
কীভাবে ঘটছে এই প্রতারণা? তিরুচি সাইবার ক্রাইম উইং জানিয়েছে, গত ৭ মাসে এই সংক্রান্ত প্রায় ১৮৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন এবং প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা হাতানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে:
- তিরুভানাইকাভালের এক ব্যক্তির বকেয়া চালানের কথা বলে মেসেজ পাঠানো হয়। লিঙ্কে ক্লিক করে পেমেন্ট করার চেষ্টা করতেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লক্ষ টাকা কেটে নেওয়া হয়।
- অপর এক ব্যক্তি RTO-র ভুয়ো লিঙ্কে ক্লিক করে OTP দেওয়া মাত্রই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় ১.৬৫ লক্ষ টাকা।
- সাধারণ মানুষের ধারণা, ট্রাফিক জরিমানা ১-২ হাজার টাকার বেশি হবে না—এই ভেবে নিশ্চিন্তে ক্লিকে যাওয়ার পরই বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা।
প্রতারকদের কৌশল: মেসেজটিকে আসল বলে বিশ্বাস করানোর জন্য জালিয়াতরা সাধারণ SMS-এর বদলে WhatsApp ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে মেসেজের সাথে RTO-র স্ট্যাম্প ও সরকারি কাগজের মতো দেখতে ছবি কিংবা কোনো APK ফাইল পাঠানো হচ্ছে। এই ফাইলেই থাকছে বিপজ্জনক ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার।
পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ: ১. RTO কখনও WhatsApp-এ চালানের লিঙ্ক পাঠায় না: পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আসল ট্রাফিক চালান বা জরিমানা সংক্রান্ত মেসেজ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী WhatsApp-এ বা লিঙ্ক আকারে পাঠানো হয় না। ২. আগে সত্যতা যাচাই করুন: WhatsApp-এ কোনো মেসেজ এলে বা তাতে আপনার গাড়ির সঠিক নম্বর থাকলেও অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। সর্বদা সরকারি পোর্টালে (যেমন- mParivahan বা e-Challan ওয়েবসাইট) গিয়ে চালানের সত্যতা পরীক্ষা করুন। ৩. অপরিচিত ফাইল বা লিঙ্ক এড়িয়ে চলুন: ভুলেও কোনো সন্দেহজনক APK ফাইল ডাউনলোড করবেন না বা লিঙ্কে ঢুকে OTP শেয়ার করবেন না। ৪. দ্রুত অভিযোগ জানান: কোনো কারণে প্রতারণার শিকার হলে বা টাকা কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম বিভাগে (১৯৩০ নম্বরে বা অফিশিয়াল পোর্টালে) অভিযোগ জানান। দ্রুত পদক্ষেপ নিলে খোয়া যাওয়া টাকার অন্তত ২০-৩০ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
সাইবার অপরাধ রুখতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পাবলিক প্লেস, স্কুল ও কলেজে প্রচার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।