‘সব দিকে নজর ছিল, বাইকেই ফিরেছি!’ যাদবপুর কাণ্ডে ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা, কাঠগড়ায় উপাচার্যের ‘অদ্ভুত’ ভূমিকা
কলকাতা: বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দিনভর উত্তাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বহিরাগতদের তাণ্ডব, অরবিন্দ ভবনে বাম ছাত্রদের লক্ষ্য করে জ্বলন্ত কাগজ ছুড়ে মারা, ক্যাম্পাসের বাইরে সংঘর্ষ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মারক (Emblem) ভাঙচুর— সব মিলিয়ে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে কোথায় ছিলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য?
পড়ুয়া ও শিক্ষকদের বড় অংশের অভিযোগ, বিপদের সময়ে উপাচার্যকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও তার পরেই তাঁর ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ক্ষুব্ধ ছাত্ররা ক্যাম্পাসে ‘ভিসি মিসিং’ বা ‘উপাচার্য নিখোঁজ’ পোস্টার পর্যন্ত লাগিয়ে দেন।
অবশেষে শুক্রবার সামনে এল আসল তথ্য। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সারাদিন উপাচার্য ক্যাম্পাসেই ছিলেন! তবে নিজের নির্ধারিত অফিসে নয়, সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি নিজেকে বন্দি রেখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় টেকনোলজি ভবনে। এমনকি নিজের সরকারি গাড়ি ও চালককেও ছুটি দিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, এদিন সকালে প্রাক্তনীদের সাথে একটি বৈঠকের পর সারাদিন টেকনোলজি ভবনেই অবস্থান করেন ভিসি। তাঁকে না পেয়ে বাম ছাত্র সংগঠন, এবিভিপি ও গবেষকরা ডেপুটেশন না দিতে পেরে ফিরে যায়। শেষমেশ পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে বাম ছাত্ররা প্রো-ভিসিকে ঘেরাও করে এফআইআর-এর দাবি জানায়।
রাত ১০টা নাগাদ যখন ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়, তখন জানা যায় উপাচার্য আটকে রয়েছেন। খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল নিজের মোটরবাইক নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন এবং উপাচার্যকে বাইকের পেছনে বসিয়ে নিরাপদে যাদবপুরের কাছে তাঁর একটি বাড়িতে পৌঁছে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন ‘উদাসীন’ ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাম ও এবিভিপি— দুই পক্ষই। ঘটনার প্রসঙ্গে শুক্রবার উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, “আমি সারাদিন ক্যাম্পাসেই ছিলাম এবং সব পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলাম। সবার ফোন ধরা সম্ভব হয়নি। রাতে বাইকে করেই বাড়ি ফিরেছি।”
তবে উপাচার্যের এই ভূমিকাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি প্রতিবাদী ছাত্ররা। বাম ছাত্রনেত্রী অনুষ্ণা দাস প্রশ্ন তুলেছেন, “ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকেও উপাচার্য কেন আত্মগোপন করে ছিলেন? এত বড় তাণ্ডব ঘটে গেল, অথচ কর্তৃপক্ষ পুলিশে একটা অভিযোগ পর্যন্ত জানাল না! ভিসি কাকে ভয় পাচ্ছেন?”