যন্তর মন্তরে সংরক্ষণবিরোধী ক্ষোভের বিস্ফোরণ, তুঙ্গে উত্তেজনা: আটক বহু!

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু হওয়া ‘রিজার্ভেশন হটাও’ বা সংরক্ষণবিরোধী আন্দোলন এক লহমায় বাস্তবের রাস্তায় নেমে এল। দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তর চত্বর আবারও পরিণত হলো এক উত্তপ্ত রণাঙ্গনে। জাতভিত্তিক সংরক্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজধানীর বুকে হাজার হাজার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
তবে অনুমোদিত স্থান রামলীলা ময়দান ছেড়ে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরে ভিড় জমাতেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশনে নামে দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, হাতে ব্যানার, পোস্টার এবং গেরুয়া পতাকা নিয়ে বিক্ষোভকারীরা জাতভিত্তিক সংরক্ষণের অবসান চেয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। দিল্লি পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেয় এবং অনেককে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে (আগাম আটক) নেয়।
বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি: সরকারি চাকরি, শিক্ষা এবং অন্যান্য সহায়তার ক্ষেত্রে জাতের বদলে আর্থিক অবস্থাকেই একমাত্র মাপকাঠি করা হোক। অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার এক আন্দোলনকারী জানান, “আমাদের দাবি পরিষ্কার—পরিবারের আর্থিক অবস্থা দেখে সরকারি সুবিধা দেওয়া হোক। তিনি যে জাতেরই হন না কেন, দরিদ্র হলে তাঁকে শিক্ষা ও চাকরির সুবিধা দিতে হবে।”
প্রশাসনের অনুমতি ও পুলিশের পদক্ষেপ: শুক্রবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছিল দিল্লি পুলিশ। ব্যারিকেড ও অতিরিক্ত আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট ডিসিপি দপ্তর জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে কোনো ধরনের জমায়েতের অনুমতি ছিল না। আয়োজকদের শুধুমাত্র রামলীলা ময়দানে বিকাল ৪টে পর্যন্ত সর্বাধিক ৫০০ জনের একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি (NOC) দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা শর্ত ভেঙে সরাসরি যন্তর মন্তরে পৌঁছে গেলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
ইনস্টাগ্রাম থেকে ভার্চুয়াল আন্দোলনের রাজপথে রূপান্তর: ডিজিটাল পোস্ট যে কীভাবে বাস্তব রাজনীতি ও রাজপথকে কাঁপিয়ে দিতে পারে, তার বড় প্রমাণ এই আন্দোলন। ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’ নামের একটি নির্দিষ্ট ইনস্টাগ্রাম পেজ (যার ফলোয়ার প্রায় ৫৬ লাখ) থেকে ২১ অগস্ট যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই পেজের আহ্বানেই হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
ডিজিটাল দুনিয়ার এই ডাক ও দিল্লির রাজপথের এই বিক্ষোভ আগামী দিনে দেশের সংরক্ষণ নীতি এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বড় আলোচনার জন্ম দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।