ঝা-চকচকে ব্র্যান্ডের বিষাক্ত বাস্তবতা! ম্যাকডোনাল্ডস-কেএফসি সহ ১৩টি নামী রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল, রান্নাঘরে মিলল আরশোলা-পচা আবর্জনা

ঝা-চকচকে ব্র্যান্ডের বিষাক্ত বাস্তবতা! ম্যাকডোনাল্ডস-কেএফসি সহ ১৩টি নামী রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল, রান্নাঘরে মিলল আরশোলা-পচা আবর্জনা

বাইরে ঝলমলে আলো ও অভিজাত পরিবেশ, আর ভেতরে পচা নোংরা ও জ্যান্ত আরশোলার থিকথিকে ভিড়! বড় বড় ফাস্টফুড চেন বা দামি ক্লাবের নাম দেখে যাঁরা নিশ্চিন্তে খাবার খান, তাঁদের আঁতকে ওঠার মতো তথ্য সামনে এল। খাবারের চরম নিম্নমান এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে ম্যাকডোনাল্ডস (McDonald’s), কেএফসি (KFC) এবং ঐতিহাসিক বম্বে প্রেসিডেন্সি রেডিও ক্লাব সহ রাজ্যের ১৩টি প্রথম সারির রেস্তরাঁ ও ক্লাবের ফুড লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করেছে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)।

গত মে মাসে মহারাষ্ট্রের এফডিএ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন আইএএস অফিসার তুকারাম মান্ধে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন তিনি। সম্প্রতি স্পেশাল ড্রাইভের অধীনে ৮৯টি নামী হোটেল, রেস্তরাঁ ও ধাবায় সারপ্রাইজ ভিজিট করা হয়। তদন্তে ৭১টি সংস্থাকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং ১৩টিরও বেশি নামী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সরাসরি সাসপেন্ড করা হয়।

১. ম্যাকডোনাল্ডসের চরম অবহেলা ও ‘নকল চিজ’ জালিয়াতি:

দক্ষিণ মুম্বইয়ের কোলাবার মেট্রো হাউসে অবস্থিত ম্যাকডোনাল্ডসের আউটলেটের ফাসাই (FSSAI) লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে।

  • কী মিলল পরিদর্শনে? আগের ভিজিটে দেওয়া ২০টি নির্দেশিকার মধ্যে ১৮টিই অমান্য করেছে তারা। ফ্রিজের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র বিকল, কিচেনে জ্যান্ত আরশোলা ও মেঝের ওপর পচা আবর্জনা জমে ছিল। এমনকি কর্মচারীরা জুতো ও নোংরা মোছার পর হাত না ধুয়েই খাবার নাড়াচাড়া করছিলেন।
  • চিজের নামে প্রতারণা: খাঁটি চিজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ‘GO Cheese SAUCE’ নামক কৃত্রিম নন-ডেয়ারি প্রসেসড অ্যানালগ ব্যবহার করছিল। যদিও বিতর্কের মুখে ম্যাকডোনাল্ডস দাবি করেছে, তারা খাদ্য সুরক্ষায় ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি মান্য করে এবং সব নিয়ম খতিয়ে দেখছে।

২. বরফের জলে ভিজছে খাবার, মিষ্টির দোকানে পোকা ধরা আটা!

পিছিয়ে নেই অন্য ব্র্যান্ডগুলিও:

  • কেএফসি (KFC): পুণের বাভধান আউটলেটে কোল্ড স্টোরেজের এসি লিক করে খোলা খাবারের ওপর বরফ জমছিল। মেঝের ওপর ফেলে রাখা হয়েছিল খাবারের বাক্স এবং স্টোরেজটি অনুমোদিত ছিল না।
  • বম্বে প্রেসিডেন্সি রেডিও ক্লাব: এই অভিজাত ক্লাবে ৪৭% নিয়মই মানা হচ্ছিল না। রান্নাঘরে জ্যান্ত মাছি, মরা আরশোলা, রান্নার উপাদানের পাশেই রাখা ছিল বিষাক্ত কেমিক্যাল ও ডিটারজেন্ট!
  • ছপ্পন ভোগ থালি রেস্টুরেন্ট: ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের এই রেস্তরাঁয় পোকা ধরা জোয়ার ও বাজরার আটা দিয়ে রুটি তৈরি হচ্ছিল। কর্মচারীরা সাফ জানায়, হাত দিয়ে পোকা বেছে ফেলে দিয়েই তারা গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন করত!
  • অন্যান্য আউটলেট: ড্রেনেজ লাইনে সমস্যা ও নোংরা বাসন ব্যবহারের জন্য বন্ধ হয়েছে মালাডের ‘নোভারা রেস্তরাঁ’, মেরিন ড্রাইভের বিখ্যাত ‘স্ট্যাটাস রেস্তরাঁ’ (যেখানে কর্মীকে পরিষ্কার বাসনে মুখ ধুতে দেখা যায়) এবং ‘খার জিমখানা’। এ ছাড়া একাধিক মিষ্টির দোকান ও হোটেলের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফুটপাথের দোকান থেকে শুরু করে বহুজাতিক ফাস্টফুড জয়েন্ট—খাবারের পাতে এমন ভয়াবহ অবহেলা দেখে তাজ্জব সাধারণ মানুষ। এফডিএ-র এই সাঁড়াশি অভিযানে আপাতত কাঁপন ধরেছে রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *