‘ভুল বোঝানো হয়েছিল!’ ঋতব্রত-শিবির ছেড়ে মমতার আঁচলতলেই ঘর ওয়াপসি কাসেমের

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের মধ্যেই বড়সড় রাজনৈতিক নাটক। বিদ্রোহী গোষ্ঠী ছেড়ে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে মূল দলে ফিরে এলেন আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকি।
কয়েক মাস আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন এই নেতা। তবে সেই অধ্যায় চুকিয়ে কাসেম স্পষ্ট জানান, তিনি চিরকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাঁর দাবি, বিদ্রোহী দলে যোগ দেওয়ার সময় তাঁকে বলা হয়েছিল যে ওই গোষ্ঠীও মমতার নির্দেশেই কাজ করছে। এমনকী একটি নথিতে সই করিয়ে তা মমতার কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন, সেই গোষ্ঠীর গতিবিধিতে তৃণমূল সুপ্রিমোর কোনো উল্লেখই নেই।
আমডাঙার বিধায়কের সাফ কথা— “দিদিই আমাদের সব। তাঁর ছবি দেখিয়েই আমরা মানুষের ভোট পেয়ে বিধায়ক হয়েছি। সুতরাং, যতদিন রাজনীতি করব, দিদির সঙ্গেই থাকব।”
ফুরফুরা শরিফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় সংখ্যালঘু রাজনীতিতে পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকির নিজস্ব প্রভাবশালী ভিত্তি রয়েছে। গত বছর তৃণমূলে যোগ দিয়ে সাধারণ সম্পাদক হন এবং পরে আমডাঙা থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ও দলের প্রতিনিধি দল কেন্দ্র করে যখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাত চরমে, ঠিক তখনই কাসেমের এই ‘ঘর ওয়াপসি’ শাসক শিবিরকে রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি দিল। বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফ্লোর টেস্টের দাবি জানালেও, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গোপন ব্যালটে ভোটাভুটির আহ্বান করেছেন এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। সব মিলিয়ে, কাসেমের ফেরা তৃণমূলের ক্ষমতার লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল।